বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে এভারকেয়ার হাসপাতালের শয্যায় ৩৬ দিন কাটিয়ে আসছেন, তবে তার শারীরিক অবস্থায় কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। রোগীর স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে জানাতে পার্টির স্বাস্থ্য বিষয়ক সচিব ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমান অবস্থায় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি এবং হাসপাতাল-সৃষ্ট সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। চিকিৎসকবৃন্দ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন এবং রোগীর অন্যান্য অঙ্গের কার্যকারিতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
গতকাল বিকেলে বিএনপি কার্যনির্বাহী নেতা তারিক রহমান পার্টি নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের সমবেত প্রার্থনা চেয়ে নয়া পল্টন অফিসে উপস্থিত হন। একই সময়ে তারিকের স্ত্রী জুবাইদা, কন্যা জাইমা, শর্মিলা ও তার কন্যা জাহিয়া সহ পরিবারিক সদস্যরা এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে রোগীর অবস্থা জানার চেষ্টা করেন। খালেদার বড় বোন সেলিনা ইসলাম ও ছোট ভাই শামিম ইস্কান্দারও একই দিনে হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর হৃদয় ও ফুসফুসে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পরই হাসপাতালে ভর্তি হন। তার চিকিৎসা দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর শাহাবুদ্দিন তালুকদার, যিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিক্যাল বোর্ডের অংশ। বোর্ডের কাজ হল রোগীর জটিলতা নিয়ন্ত্রণ, রোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় থেরাপি নির্ধারণ করা।
বিএনপি স্বাস্থ্য বিষয়ক সচিবের মতে, রোগীর বর্তমান অবস্থা পূর্বের মতোই এবং রোগীর রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাস ও কিডনি কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখতে চিকিৎসকবৃন্দ নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাসপাতালে সংক্রমণ রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে, তবে রোগীর শারীরিক দুর্বলতা এই সংক্রমণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ.জে.এম. জাহিদ জানান, রোগী বর্তমানে একটি সংকটপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, রোগীর লিভার সিরোসিস, স্থায়ী পেসমেকার এবং পূর্বে হৃদয়ে স্টেন্ট বসানোর ইতিহাস রয়েছে, যা বর্তমান চিকিৎসাকে আরও জটিল করে তুলছে। রোগীর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এবং হৃদয়ের সমস্যার সমন্বয়মূলক চিকিৎসা চলছে।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলোর মধ্যে লিভার সিরোসিসের পাশাপাশি হৃদয়ে স্থায়ী পেসমেকার এবং পূর্বে করা স্টেন্টের রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। এসব রোগের কারণে রোগীর শারীরিক শক্তি হ্রাস পেয়েছে এবং সংক্রমণ সহজে ঘটতে পারে। চিকিৎসকরা রোগীর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অ্যান্টিবায়োটিক ও শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা প্রদান করছেন।
মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের ফলে রোগীর জন্য সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী রোগীর হৃদয় ও ফুসফুসের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সময়ে থেরাপি সমন্বয় করা হচ্ছে।
এই সপ্তাহের শুরুতে রোগীকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তবে শারীরিক অবস্থা অনুকূল না হওয়ায় তা বাতিল করা হয়। পার্টি নেতারা এই সিদ্ধান্তকে রোগীর স্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে সমর্থন জানিয়েছেন।
বিএনপি কার্যনির্বাহী নেতা তারিক রহমানের প্রার্থনা আহ্বান পার্টির ভিতরে একতাবদ্ধতা ও সমর্থনের প্রতিফলন। পার্টির কর্মীরা রোগীর দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা ও দান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
খালেদা জিয়ার অবস্থা সম্পর্কে জানার পর, বিরোধী দল আওয়ামী লীগ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রোগীর দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা বিএনপির সংগঠনগত কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে।
বিএনপি নেতারা রোগীর স্বাস্থ্যের উন্নতি না হওয়া সত্ত্বেও পার্টির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, রোগীর স্বাস্থ্যই না হলেও দলীয় কাঠামো ও নীতি কার্যকরভাবে চালিয়ে যাবে।
রোগীর পরিবার ও পার্টি সমর্থকরা হাসপাতালের শয্যায় রোগীর পাশে থেকে প্রার্থনা ও সমর্থন জানাচ্ছেন। এদিকে চিকিৎসকবৃন্দ রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা এখনো অনিশ্চিত, তবে চিকিৎসা দল রোগীর শ্বাসযন্ত্র ও হৃদয়ের কার্যকারিতা বজায় রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। রোগীর ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য পুনরায় বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সম্ভাবনা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
বিএনপি পার্টি এই সময়ে রোগীর জন্য প্রার্থনা ও সমর্থন জোরদার করে, একই সঙ্গে পার্টির রাজনৈতিক কৌশল ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মনোযোগ বজায় রাখছে। রোগীর স্বাস্থ্যের উন্নতি না হলে পার্টির নেতৃত্বের পরিবর্তন বা নতুন কৌশল গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে।



