সিনিয়র র্যাপার শ্যান “ডিডি” কম্বসের দুই সন্তান, জাস্টিন ও ক্রিস্টিয়ান, তাদের পিতার আইনি সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে একটি ডকুমেন্টারি সিরিজের শুটিং শুরু করেছে। জিউস নেটওয়ার্ক রবিবার রাতের ট্রেলার প্রকাশের মাধ্যমে সিরিজের প্রথম ঝলক দেখিয়েছে এবং ইনস্টাগ্রাম পেজে ২০২৬ সালের মধ্যে সম্প্রচারের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল পিতার ফেডারেল মামলার সময়ে ভাইদের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাগুলো উপস্থাপন করা।
ট্রেলারে দেখা যায়, ভাইজনেরা ম্যানহাটনের আদালতে চলমান ট্রায়ালকে টেলিভিশনে অনুসরণ করে, যখন তারা একে অপরের পাশে বসে ঘটনাগুলোর প্রতি গভীর আবেগ প্রকাশ করে। ক্যামেরা দ্রুতগতিতে আদালতের বাইরের ভিড়, সাংবাদিকদের গুঞ্জন এবং ভাইদের মুখের প্রকাশকে ধরেছে, যা দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। দৃশ্যের মাঝখানে সাদা রঙের বড় অক্ষরে “উত্থান”, “পরিবার”, “ব্যথা”, “বিশ্বাসঘাতকতা” ইত্যাদি শব্দগুলো ঝলমল করে, যা সিরিজের থিমকে সংক্ষেপে তুলে ধরে।
শ্যান কম্বসের ফেডারেল র্যাকেটিয়ারিং ও সেক্স-ট্রাফিকিং মামলাটি জুলাইয়ের শুরুর দিকে সমাপ্ত হয়, যেখানে জুরি ভাগ্য ভাগ করে তাকে আজীবন কারাদণ্ড থেকে রক্ষা করে। তবে, ম্যান অ্যাক্ট লঙ্ঘনের জন্য তাকে ৫০ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, এবং বর্তমানে তিনি নিউ জার্সির ফেডারেল কারা-সংশোধন প্রতিষ্ঠানে বন্দী। এই আইনি পরিণতি তার ক্যারিয়ার ও পারিবারিক জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে।
কম্বসের এই আইনি কাহিনীর ওপর নেটফ্লিক্সে চারটি পর্বের একটি ডকুসিরিজও তৈরি হয়েছে, যা তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী র্যাপার ৫০ সেন্টের অংশীদারিত্বে তৈরি। নেটফ্লিক্সের সিরিজটি দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছে এবং কম্বসের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের অন্ধকার দিকগুলোকে উন্মোচন করেছে। এই দুইটি ডকুমেন্টারি প্রকল্প একসাথে কম্বস পরিবারের বর্তমান অবস্থাকে বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রেলারটির একটি দৃশ্যে ভাইজনেরা ফোনের রিং শোনে, যা ফোর্ট ডিক্সের ফেডারেল কারা-সংশোধন প্রতিষ্ঠানের থেকে আসা একটি কারাবাস কল। এই কলের মাধ্যমে তারা পিতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মুহূর্তটি উপভোগ করে, যদিও তিনি এখন নিউ জার্সিতে বন্দী। ফোনের শব্দ এবং ভাইদের মুখের প্রকাশের মিশ্রণটি দর্শকদের মধ্যে গভীর সহানুভূতি জাগায়।
ডকুসিরিজের সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি; ট্রেলারে দেখা যায় যে সিরিজটি জুলাইয়ের ট্রায়াল সমাপ্তির পরেও চলতে পারে, অথবা অক্টোবর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এই অনিশ্চয়তা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ পিতার আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো এখনও অজানা। সিরিজের নির্মাতারা ভবিষ্যতে আরও তথ্য শেয়ার করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
এই ডকুমেন্টারি সিরিজের মাধ্যমে কম্বস পরিবার তার ব্যক্তিগত কষ্ট ও পারিবারিক বন্ধনের গল্পকে বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চায়। ভাইজনের দৃষ্টিকোণ থেকে পিতার আইনি সংগ্রামকে দেখিয়ে তারা একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে, যা পূর্বের মিডিয়ার কভারেজ থেকে আলাদা। দর্শকরা আশা করছেন, এই সিরিজটি হিপ-হপ রাজবংশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও মানবিক দিকগুলোকে উন্মোচন করবে।
বিনোদন জগতের এই নতুন উদ্যোগটি শিল্পের ভক্ত ও সাধারণ দর্শকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিডি কম্বসের পিতার আইনি পরিণতি এবং তার পরিবারের অভ্যন্তরীণ গতিবিধি এখন একটি ডকুমেন্টারি ফরম্যাটে উপস্থাপিত হবে, যা ২০২৬ সালে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে হিপ-হপ সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন আলোতে দেখা যাবে।



