সাম্প্রতিক টেকক্রাঞ্চ ডিসরাপ্ট সম্মেলনে তিনজন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী একত্রিত হয়ে পিচ ডেকের কার্যকারিতা ও ত্রুটি বিশ্লেষণ করেন। জ্যোতি বংসাল, মেধা আগারওয়াল (ডিফাই) এবং জেনিফার নেউন্ডরফার (জানুয়ারি ভেঞ্চার্স) স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য কোন বিষয়গুলো অপরিহার্য এবং কোনগুলো অতিরিক্ত বলে বিবেচিত হয় তা স্পষ্ট করেন। তাদের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে পিচের গঠন, বাজারের সম্ভাবনা এবং প্রতিষ্ঠাতার অনন্যতা।
বক্তারা একসাথে উল্লেখ করেন যে পিচে অতিরিক্ত জারগন ও ট্রেন্ডি শব্দের ব্যবহার তাদের সবচেয়ে বিরক্তিকর অভ্যাস। বিশেষ করে “এআই” শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহারকে তারা সতর্কতা সংকেত হিসেবে দেখেন।
মেধা আগারওয়াল বলেন, পিচে যত বেশি “এআই” উল্লেখ করা হয়, বাস্তবে কোম্পানির প্রকৃত এআই ব্যবহার তত কম হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সত্যিকারের উদ্ভাবনী সমাধানগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এআই অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তা পিচের মূল বিষয় নয়।
জ্যোতি বংসাল, যিনি একাধিক সফল স্টার্টআপ গড়ে তোলার পর বিনিয়োগের পথে পা বাড়িয়েছেন, বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে তিনটি মূল প্রশ্নকে ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন। এই প্রশ্নগুলো পিচের গুণগত মান নির্ধারণে সহায়ক।
প্রথম প্রশ্নটি বাজারের আকার ও সমস্যার গুরুত্ব নিয়ে। তিনি জোর দেন যে প্রতিষ্ঠাতার ধারণা কি পর্যাপ্ত বড় বাজারকে লক্ষ্য করে এবং সমাধান করা সমস্যাটি সত্যিই সমাধানযোগ্য ও মূল্যবান কিনা তা যাচাই করা দরকার।
দ্বিতীয় প্রশ্নটি প্রতিষ্ঠাতার নিজস্ব সক্ষমতা ও পার্থক্য নিয়ে। বংসাল উল্লেখ করেন যে প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে কিছু অনন্য গুণ বা দক্ষতা থাকতে হবে, যেমন বিশেষ টিম সদস্য বা নির্দিষ্ট শিল্পের অভিজ্ঞতা, যা তাকে প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে।
তৃতীয় প্রশ্নটি গ্রাহক ভিত্তিক প্রমাণ বা ট্র্যাকশনের উপস্থিতি। তিনি বলেন, প্রাথমিক গ্রাহক প্রতিক্রিয়া, আয় বা অন্য কোনো ধরনের ভ্যালিডেশন পিচকে শক্তিশালী করে এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি কমায়।
এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর একত্রে একটি চূড়ান্ত মানদণ্ডের দিকে নিয়ে যায়: স্টার্টআপটি কি এক বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে রূপান্তরিত হতে পারে? বংসাল এই সম্ভাবনাকে বিনিয়োগের মূল লিটমাস টেস্ট হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্যানেলটি এআই স্টার্টআপের অতিরিক্ত স্যাচুরেশন নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে বংসাল ডোমেইন এক্সপার্টিজ এবং স্পষ্ট প্রতিযোগিতামূলক কৌশলের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি শুধুমাত্র ট্রেন্ড নয়, বরং নির্দিষ্ট শিল্পের গভীর জ্ঞান ও বাস্তব সমস্যার সমাধান হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
জেনিফার নেউন্ডরফার তার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন যে তিনি এমন কোম্পানিতে বেশি আগ্রহী যা ব্যবহারকারীর নতুন আচরণ গড়ে তুলতে সক্ষম, শুধুমাত্র বিদ্যমান পণ্যকে সামান্য উন্নত করার বদলে। এই ধরনের উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়ায়।
সারসংক্ষেপে, পিচ ডেকের গঠন, বাজারের সম্ভাবনা, প্রতিষ্ঠাতার অনন্যতা এবং প্রমাণিত ট্র্যাকশনকে একত্রে উপস্থাপন করা স্টার্টআপের সফলতার মূল চাবিকাঠি। এআই স্টার্টআপের ক্ষেত্রে ডোমেইন জ্ঞান ও ব্যবহারকারীর আচরণে পরিবর্তন আনা কৌশলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে আরও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেবে, যা স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূ করে তুলবে।



