বগুড়া জেলায় আজ তিনটি নির্বাচনী আসনে বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে। বিএনপি উচ্চ কমান্ডের নির্দেশে বিকল্প প্রার্থীকে প্রাথমিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে ব্যাকআপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। জেলাভুক্ত বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, বিকল্প প্রার্থীর নামগুলো একই দিনে জমা দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মূল প্রার্থী মির শাহে আলম প্রায় সকাল ১১:৩০ টায় শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই আসনের জন্য পূর্বে নাগরিক ঐক্য সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। মান্নার মনোনয়নপত্র বিকেল প্রায় ৪:০০ টায় রিটার্নিং অফিসারকে জমা হয়েছে, যা জেলাভুক্ত জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম নিশ্চিত করেছেন।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে কেন্দ্রীয় সদস্য ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামকে মূল প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত করা হয়েছিল। তিনি সোনাতলা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে একই দিনে সোনাতলা উপজেলার বিএনপি সভাপতি একেএম আহসানুল তাইয়াবকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে নামাঙ্কিত করা হয়। তাইয়াব বিকালের দিকে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও ডেপুটি কমিশনারের কাছে তার পত্র জমা দেন। বাদশা উল্লেখ করেন, কাজী রফিকুল ইসলাম এখনও মূল প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন, আর তাইয়াবকে কৌশলগত কারণে বিকল্প হিসেবে মনোনয়ন করা হয়েছে।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। তার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার ডেপুটি কমিশনার ও জেলা রিটার্নিং অফিসারকে পত্র জমা দেন। একই সময়ে গাবতলী উপজেলার বিএনপি সভাপতি মোরশেদ মিল্টনও এই আসনের জন্য নিজস্ব মনোনয়নপত্র জমা করেন, যা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে প্রদান করা হয়।
বিএনপি উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে বিকল্প প্রার্থীর নামকরণ করা হয়েছে যাতে কোনো মূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে দল দ্রুত বিকল্পের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যেতে পারে। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্টির কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য বহন করে।
বগুড়া জেলায় আজ জমা হওয়া মনোনয়নপত্রের সংখ্যা এবং সময়সূচি নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। কমিশন প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করে শেষ পর্যন্ত ভোটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে। বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিশ্চিত হলে, পার্টি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাবে।
বিএনপি জেলাভুক্ত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, বিকল্প প্রার্থীর নির্বাচন দলকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জাল প্রদান করবে এবং প্রাথমিক প্রার্থীর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত বিকল্পের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
বগুড়া-১,২ ও ৭ আসনে বিকল্প প্রার্থীর উপস্থিতি পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও কৌশলগত পরিকল্পনার প্রতিফলন। এই পদক্ষেপের ফলে ভোটারদের কাছে পার্টির প্রস্তুতি ও দৃঢ়তা প্রকাশ পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
অন্যদিকে, ফরিদপুর জেলায় মোট ১৫টি আসনে সর্বনিম্ন ১৪২টি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে, যা দেশের অন্যান্য জেলায় জমা হওয়া পত্রের তুলনায় কম। এই তথ্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার সামগ্রিক গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিএনপি জেলাভুক্ত কর্মকর্তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে বিকল্প প্রার্থীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর কথা উল্লেখ করেছেন। তারা আশা করেন, বিকল্প প্রার্থীর উপস্থিতি পার্টির ভোটাভুটি জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।
নির্বাচনী সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায়, সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের চূড়ান্ত অনুমোদন ও তালিকাভুক্তি শীঘ্রই হবে। ভোটারদের জন্য প্রার্থীদের প্রোফাইল ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বগুড়া জেলায় আজকের এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রক্রিয়া নির্বাচনী ক্যালেন্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা পার্টির কৌশলগত প্রস্তুতির সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



