রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের রাত্রিকালীন বিবৃতির পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেন্স্কি রাশিয়ার পুতিনের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত নোভগোরডের রাষ্ট্রিক বাসভবনে ড্রোন আক্রমণ ঘটেছে বলে করা অভিযোগকে কঠোরভাবে নাকচ করেছেন। লাভরভের মতে, কিয়েভ রাতের বেলায় ৯১টি দীর্ঘপরিসরের অনমানবিক বিমান (UAV) ব্যবহার করে পুতিনের বাসভবনে আক্রমণ চালায় এবং রাশিয়ার বায়ু প্রতিরক্ষা সবগুলোই ধ্বংস করে। তিনি উল্লেখ করেন, আক্রমণের ফলে কোনো প্রাণহানি বা সম্পত্তি ক্ষতি ঘটেনি।
জেলেন্স্কি এই দাবিকে “সাধারণ রাশিয়ান মিথ্যা” বলে খণ্ডন করে বলেন, রাশিয়া এই ধরনের কল্পিত ঘটনার মাধ্যমে ইউক্রেনের ওপর অব্যাহত হামলার জন্য বৈধতা তৈরি করতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নীরব থাকতে দেওয়া যাবে না এবং রাশিয়াকে শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে দেওয়া উচিত নয়।
লাভরভের মন্তব্যে রাশিয়া এখন কিয়েভের শাসনকে “অপরাধী” ও “রাষ্ট্রভীতি” হিসেবে চিহ্নিত করে, এবং এই ভিত্তিতে শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে বলে জানানো হয়েছে। তবুও তিনি রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া থেকে সরে যাবে না, এ কথাও স্পষ্ট করে জানান।
এই দাবিগুলি আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের ফ্লোরিডা সফরের পর, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেলেন্স্কি যুদ্ধ শেষের জন্য একটি সংশোধিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। জেলেন্স্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করতে ইচ্ছুক, এবং ট্রাম্প এই চুক্তির প্রায় ৯৫% সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
শান্তি আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ভূখণ্ডগত বিরোধ, রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিজহিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র এবং ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অন্তর্ভুক্ত। রাশিয়া পূর্বে আলোচ্য পরিকল্পনার কিছু ধারা প্রত্যাখ্যান করেছে, ফলে এই বিষয়গুলো এখনও সমাধানহীন রয়ে গেছে।
লাভরভের মতে, ড্রোন আক্রমণের সব ৯১টি ইউনিট রাশিয়ার বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে এবং কোনো মানবিক ক্ষতি ঘটেনি। তিনি রাশিয়ার আলোচনায় অবস্থান পরিবর্তনের কারণ হিসেবে কিয়েভের শাসনকে “রাষ্ট্রভীতি” ও “অপরাধী” হিসেবে উল্লেখ করেন, যা রাশিয়ার কূটনৈতিক কৌশলে প্রভাব ফেলবে।
জেলেন্স্কি রাশিয়ার এই দাবিকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারিত মিথ্যা হিসেবে দেখেন এবং রাশিয়ার এই ধরনের প্রচারকে ইউক্রেনের ওপর অব্যাহত আক্রমণের বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বকে এখন নীরব না থেকে রাশিয়ার শান্তি প্রক্রিয়ার ব্যাহত করার প্রচেষ্টাকে থামাতে হবে।
ফ্লোরিডা সফরের সময় ট্রাম্প ও জেলেন্স্কি যে নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে আলোচনা করেন, তা ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ছিল। ট্রাম্পের মতে, এই গ্যারান্টি প্রায় সম্পন্ন অবস্থায় রয়েছে, যা ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক সমর্থনকে শক্তিশালী করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেও রাশিয়া এখনও আলোচনার কিছু মূল শর্তে আপত্তি জানিয়ে আসছে, বিশেষ করে ডনবাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাপোরিজহিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে। এই বিরোধগুলো ভবিষ্যতে আলোচনার অগ্রগতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রাশিয়া যে ড্রোন আক্রমণের দাবি করেছে তা ইউক্রেনের নেতৃত্ব অস্বীকার করেছে, এবং উভয় পক্ষের বিবৃতি আন্তর্জাতিক শান্তি আলোচনার জটিলতা ও অগ্রগতির ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোই ভবিষ্যৎ সমঝোতার মূল নির্ধারক হবে।



