গাজা উপত্যকায় হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রাক্তন মুখপাত্রের মৃত্যু সম্পর্কে গোষ্ঠীর নতুন মুখপাত্র সোমবার বিকেলে টেলিভিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ৩১ আগস্টের আকাশ হামলা গাজা শহরের উত্তরাংশে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর আবু ওবায়দা নিহত হয় বলে দাবি করা হয়েছিল; আজ হামাসের এই ঘোষণার মাধ্যমে সেই তথ্যের স্বীকৃতি দেওয়া হল। নতুন মুখপাত্রের বক্তব্যে মৃত্যুর প্রকৃত নাম হুজাইফা সামির আল-কাহলুত হিসেবে প্রকাশ করা হয় এবং তিনি দুই দশক ধরে মুখমন্ডল ঢেকে রেখে আল-কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
বক্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি নিজেকে ‘আবু ওবায়দা’ নামে পরিচিত করবেন এবং পূর্বসূরির দায়িত্ব অব্যাহত রাখবেন। গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিচয় প্রকাশের পর তিনি গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। একই সময়ে গাজায় হামাসের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুও নিশ্চিত করা হয়; গাজা অঞ্চলের নেতা মোহাম্মদ সিনওয়ার, রাফাহ ব্রিগেডের প্রাক্তন কমান্ডার মুহাম্মদ শাবানা (আবু আনাস) এবং আল-কাসাম ব্রিগেডের যুদ্ধ ও প্রশাসনিক সহায়তা বিভাগের প্রধান হাকেম আল-ইসা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
নতুন মুখপাত্রের ভাষণে ৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে ইসরায়েল কর্তৃক চালিত ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’কে প্রশংসা করা হয়। তিনি বলেন, ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী নিপীড়ন ও আল-আকসা মসজিদের অবমাননার প্রতিক্রিয়ায় এই অপারেশন একটি শক্তিশালী জবাব ছিল। এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, হামাসের জন্য এমন অপারেশনকে স্বীকৃতি দেওয়া গোষ্ঠীর বর্ণনায় একটি কৌশলগত পরিবর্তন নির্দেশ করে, যা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় গাজা সংক্রান্ত আলোচনার দিক পরিবর্তন করতে পারে।
মৃত্যু সত্ত্বেও গোষ্ঠীর কাঠামো বা লড়াইয়ের মানসিকতা ভেঙে যাবে না, এটাই নতুন মুখপাত্রের মূল বার্তা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দখলদারিত্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ করা হবে না এবং প্রয়োজনে নখ দিয়ে হলেও লড়াই চালিয়ে যাবে। গাজায় বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি গোষ্ঠীর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিন সমর্থকদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ গাজা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং মানবিক সহায়তার আহ্বান জানায়। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, হামাসের নেতৃত্বে একাধিক শীর্ষ ব্যক্তির মৃত্যু গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ সংহতি বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
অধিকন্তু, গাজা অঞ্চলে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে ইসরায়েলি ও প্যালেস্টাইনিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি ধীর হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশগুলো এই মুহূর্তে গাজা জনগণের মানবিক চাহিদা মেটাতে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে। গাজা উপত্যকায় অব্যাহত শত্রুতা ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে, হামাসের নতুন মুখপাত্রের এই ঘোষণাকে গোষ্ঠীর কৌশলগত পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, হামাসের নতুন মুখপাত্রের মাধ্যমে আল-কাসাম ব্রিগেডের দীর্ঘদিনের মুখপাত্র আবু ওবায়দার মৃত্যুর নিশ্চিতকরণ, অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু এবং গোষ্ঠীর অটল প্রতিরোধের ঘোষণা গাজা সংঘাতের বর্তমান গতিপথকে নতুন দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ও মানবিক চাহিদা বিবেচনা করে, গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



