২০ ডিসেম্বর, শনিবার, ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে ১৩টি ছোট নৌকায় মোট ৮০৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী যুক্তরাজ্যের তীরে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই একদিনের সংখ্যা রেকর্ড হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হিসেবে চিহ্নিত।
ব্রিটিশ সরকার অবৈধ অভিবাসন রোধে গৃহীত পদক্ষেপের ফলস্বরূপ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ পেয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের সঙ্গে একটি চুক্তির অধীনে প্রায় ৫০,০০০ অনধিকারপ্রাপ্ত অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই চুক্তি ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের প্রচেষ্টা কমাতে লক্ষ্য রাখে।
বিবিসি সূত্রে জানানো হয়েছে, চ্যানেল পার হওয়া ৮০৩ জনের মধ্যে বেশিরভাগই বর্ডার ফোর্স ও রয়্যাল নেভি ল্যান্ডিং ইনস্টিটিউশন (RNLI) জাহাজের সহায়তায় তীরে অবতরণ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের থামাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ফ্রান্সের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে ছোট নৌকায় করে আসা মানুষদের দ্রুত ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
এই বছর যুক্তরাজ্যে মোট ৪১,৪৫৫ জন অভিবাসী পৌঁছেছে, যা গত বছরের ৩৬,৮১৬ জনের তুলনায় প্রায় পাঁচ হাজার বেশি। তবে ২০২২ সালে রেকর্ডকৃত ৪৫,৭৫৫ জনের তুলনায় এখনও কম। ২০২৫ সালের ডেটা অনুযায়ী, একদিনে এত বড় সংখ্যায় চ্যানেল পার হওয়া পূর্বের কোনো রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে, যদিও বার্ষিক মোট সংখ্যা এখনও সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়নি।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, সাম্প্রতিক শীতল ও তীব্র আবহাওয়া পরিস্থিতি ক্যান্টের উপকূলে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে তুলেছে। তীব্র বাতাস ও তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে অনেকেই ছোট নৌকায় করে ঝুঁকি নিতে বাধ্য হয়েছেন, যা একদিনে বিশাল সংখ্যায় চ্যানেল পার হওয়ার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়া সংখ্যার বৃদ্ধি ইউরোপীয় অভিবাসন নীতির জটিলতা এবং যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা কৌশলের পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।” ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি, যদিও কিছু সমালোচনার মুখে, তবে অবৈধ প্রবাহ কমাতে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউএন শরণার্থী সংস্থা (UNHCR)ও এই প্রবাহের মানবিক দিক তুলে ধরেছে, উল্লেখ করে যে নিরাপদ ও বৈধ পথের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় করে যাত্রা করা মানুষদের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার এই উদ্বেগের প্রতি সাড়া দিয়ে, শরণার্থী প্রক্রিয়ার দ্রুততা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, একদিনে ৮০৩ জনের এই রেকর্ড চ্যানেল পার হওয়া যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি, ইউরোপীয় সহযোগিতা এবং মৌসুমী আবহাওয়ার সমন্বয়কে পুনরায় মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে, উভয় দেশই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক দায়িত্বের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে অতিরিক্ত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে পারে।



