19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিহাসনাত আব্দুল্লাহ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পদত্যাগের স্বীকৃতি দিলেন, কুমিল্লা‑৪-এ এনসিপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র...

হাসনাত আব্দুল্লাহ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পদত্যাগের স্বীকৃতি দিলেন, কুমিল্লা‑৪-এ এনসিপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান হাসনাত আব্দুল্লাহ ২৯ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলায় এনসিপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পষ্টভাবে জানালেন, ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনুযায়ী যে কেউ পদত্যাগের অধিকার রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধের ফলে গঠন‑বিচ্ছেদ চলতে থাকে, তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা শক্তিশালী হয়েছে এবং তা অনুসরণ করা হবে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশকে ১৭ বছর দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যার ফলে মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া, আর্থিক সংকটে ভুগে চলা এবং গণতন্ত্রের অবক্ষয় ঘটেছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া, লুণ্ঠিত গণতন্ত্র পুনর্গঠন এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণই তাদের সংগ্রামের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পথে শ্রীফ ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন; তাই রাষ্ট্রের স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে ইনসাফের প্রতিষ্ঠা করা দলটির প্রধান লক্ষ্য। দুর্নীতির বিরুদ্ধে গঠিত জোটের দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে এবং ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না, এটাই তাদের নীতি।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কুমিল্লা‑৪ (দেবীদ্বার) আসনে জামায়াতের নেতা সাইফুল ইসলাম শহীদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানিয়ে দেন, জামায়াতের দশ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের পর কেন্দ্রীয় জামায়াতের নির্দেশে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহকে সমর্থন জানিয়েছেন।

দেবীদ্বার উপজেলায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের স্থানীয় আমীর অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমীর ফেরদৌস আহমেদ, এনসিপির দেবীদ্বার উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার এবং শাহীদ পরিবারের সদস্যগণ। জোটের বিভিন্ন পার্টির প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, যারা এখন পদত্যাগ করেছেন তারা ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে করলে আবার দলীয় কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে দলটি কোনো নেতিবাচক প্রভাবকে ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমে কাটিয়ে উঠবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এই ঘটনাটি কুমিল্লা-৪ আসনের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ইনসাফের প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী জোটের দৃঢ়তা পার্টির নির্বাচনী কৌশলকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। একই সঙ্গে, জামায়াতের দশ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে সাইফুল ইসলাম শহীদের সরে দাঁড়ানো এবং এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন জানানো স্থানীয় রাজনৈতিক সমন্বয়কে পুনর্গঠন করতে পারে।

দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচন আসন্ন হওয়ায়, এনসিপি ও জোটের পারস্পরিক সম্পর্ক, পাশাপাশি ব্যক্তিগত পদত্যাগের স্বীকৃতি, ভোটারদের কাছে দলীয় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপিত হবে। ভবিষ্যতে দলীয় কাঠামোতে পুনরায় যোগদানকারী সদস্যদের ভূমিকা এবং ইনসাফের বাস্তবায়ন কীভাবে রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলবে, তা নজরে থাকবে।

সংক্ষেপে, হাসনাত আব্দুল্লাহ ব্যক্তিগত স্বেচ্ছায় পদত্যাগের অধিকারকে স্বীকার করে, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী জোটের নীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। জামায়াতের নেতা সাইফুল ইসলাম শহীদের সমর্থন ও অন্যান্য স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি কুমিল্লা-৪ আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মোড় দিয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments