যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা দেশব্যাপী রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেয়। জানুয়ারি ২০ তারিখে শপথ নেওয়ার পর তিনি অভিবাসন, বাণিজ্য ও মাদক-সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় নতুন নীতি চালু করেন, যা তার প্রশাসনের ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করে।
প্রথমে ট্রাম্প অভিবাসনকে ‘আক্রমণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে, বৈধ অভিবাসীদের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এমন নীতি প্রস্তাব করেন। তিনি এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
এরপর তিনি বাণিজ্য নীতিতে ‘হার্ড রিসেট’ ঘোষণা করেন, যেখানে অনিয়মিত চুক্তিগুলোকে ‘অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে পুনর্বিবেচনা করা হবে। ট্রাম্পের মতে, এই চুক্তিগুলো দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করে এবং তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।
বছরের শেষের দিকে তিনি ‘নারকোটেররিস্ট’ নামে পরিচিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালান, দাবি করেন যে এই গোষ্ঠী অবৈধ মাদককে ‘ম্যাস ডেস্ট্রাকশন ওয়েপন’ হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করার পরিকল্পনা করছে। এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি মাদক-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন।
আইনি বিশ্লেষকরা এই ধারাবাহিকতাকে প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতার একটি কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো বিস্তৃত জরুরি আইনের ব্যাখ্যা ও নির্বাহী ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহারকে নির্দেশ করে।
মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক বোম্যানের মতে, জরুরি ক্ষমতার ব্যবহার বা অপব্যবহার বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি মাত্র দিক। তিনি যুক্তি দেন যে, বর্তমান প্রশাসন এমন কিছু কাজ করছে যা পূর্বে প্রতিষ্ঠিত নির্বাহী ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে বলে বিবেচিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অন্যান্য দেশের তুলনায় প্রেসিডেন্টের জন্য কোনো সার্বজনীন জরুরি ক্ষমতা প্রদান করে না। ১৯৫২ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে স্পষ্ট করা হয় যে, প্রেসিডেন্টের এমন কোনো অন্তর্নিহিত জরুরি ক্ষমতা নেই।
তবুও কংগ্রেস বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে সীমিত জরুরি ক্ষমতা প্রদান করে। এই আইনের অধীনে প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট কাজের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারেন, তবে তা সীমিত এবং নির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভরশীল।
ইতিহাসে বেশিরভাগ আধুনিক প্রেসিডেন্ট জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন, তবে তাদের ব্যবহার ও পরিমাণে পার্থক্য দেখা যায়। কংগ্রেস ও সুপ্রিম কোর্ট সাধারণত এই ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার রোধে সতর্ক থাকে এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোযোগ দেয়।
ট্রাম্পের ২০২৫ সালের নীতি গুলোকে এখনো বিচারাধীন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত, আইনসভা ও ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এই পদক্ষেপগুলো স্থায়ী হবে নাকি সীমাবদ্ধ করা হবে তা নির্ধারিত হবে।
বিশেষত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠবে। ভোটাররা প্রেসিডেন্টের জরুরি ক্ষমতার ব্যবহারকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের ২০২৫ সালের জরুরি পদক্ষেপগুলো সংবিধানিক সীমা, নির্বাহী ক্ষমতা ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে জটিল সম্পর্ককে উন্মোচিত করেছে। এই বিষয়গুলোতে আদালত, কংগ্রেস ও জনগণের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।



