বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রথম সপ্তাহের জানুয়ারিতে ছয় থেকে আটটি দল নিয়ে একটি নতুন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। টুর্নামেন্টের নাম রাখা হয়েছে “সোনার বাংলা পাথওয়ে” এবং ম্যাচগুলো বগুড়া ও রাজশাহী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
দল গঠন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় নির্বাচকদের, যাঁরা ক্লাব ক্রিকেট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে না থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে থেকে দল তৈরি করবেন। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের অ-প্রতিনিধি খেলোয়াড়দের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চ তৈরি করা এবং তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সুযোগ সৃষ্টি করা।
বিসিবি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়াবে বলে বোর্ড দাবি করছে। তবে এই পরিকল্পনা সত্ত্বেও ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন আগামীকাল বিসিবির গেট ২ এর সামনে মানববন্ধন গঠন করে প্রতিবাদ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বোর্ডের এই পদক্ষেপকে “শাক দিয়ে মাছ ঢাকার প্রচলিত প্রথা” হিসেবে তুলনা করে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ সমস্যার মূল সমাধান না করে অস্থায়ী সমাধান দেওয়া হয়েছে।
মিঠুনের মতে, নতুন টুর্নামেন্টের মাধ্যমে সব খেলোয়াড়ের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়নি; অনেক খেলোয়াড় এখনও খেলতে পারছেন না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে সংগঠন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে এবং ধাপে ধাপে কর্মসূচি প্রয়োগ করবে।
গতকাল রাতে প্রথম বিভাগে খেলতে না পারা খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে বিসিবি কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার ওপর জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি ব্যক্তিগত মতামত বাদ দিয়ে পুরো দলের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
তামিমের মেসেজে তিনি উল্লেখ করেন, “এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়, একটি কঠিন অ্যাকশন নেওয়া দরকার” এবং কোয়াবের সভাপতি সঙ্গে কথা বলে খেলোয়াড়দের জন্য কিছু করা উচিত বলে জোর দেন। তার এই আহ্বানটি সংগঠনের প্রতিবাদ পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে।
কোয়াবের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান বিসিবি পরিচালনা পর্ষদকে “অবৈধ” বলে গণ্য করা হয়েছে এবং ৪৩টি ঢাকা লিগের ক্লাবকে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ক্লাবগুলোর মধ্যে আটটি ক্লাব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এই ক্লাবগুলোকে টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বিসিবির নতুন নীতিমালা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি অবিশ্বাস। সংগঠনটি বলছে, যদি এই ক্লাবগুলোকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত না করা হয়, তবে দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হবে।
বিসিবি ও কোয়াবের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টুর্নামেন্টের সূচি ও মানববন্ধন প্রতিবাদ উভয়ই আগামী কয়েক দিনেই বাস্তবায়িত হবে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচগুলো জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বগুড়া স্টেডিয়ামে শুরু হওয়ার কথা, আর মানববন্ধন প্রতিবাদ আগামীকাল গেট ২ এর সামনে অনুষ্ঠিত হবে।
উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে বজায় রাখছে; বিসিবি টুর্নামেন্টের মাধ্যমে অ-প্রতিনিধি খেলোয়াড়দের সুযোগ বাড়াতে চায়, আর কোয়াব সকল খেলোয়াড়ের সমান সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক। এই দ্বন্দ্বের ফলাফল দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরবর্তী সপ্তাহে টুর্নামেন্টের ম্যাচসূচি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কোয়াবের মানববন্ধন প্রতিবাদও শেষ হবে। উভয়ই আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমন্বিত সমাধান বের হবে, যাতে দেশের সব স্তরের ক্রিকেটারই সমানভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।



