রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক জিএস সালাউদ্দিন আম্মার রোববার প্রকাশিত একটি বিবৃতির পর শিক্ষক নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষক নেটওয়ার্কের ফেসবুক পেজে ‘ক্যাম্পাসে ছাত্র প্রতিনিধিদের অতিরিক্ত তৎপরতা বন্ধ হোক’ শিরোনামে একটি পোস্ট ছিল, যার প্রতি আম্মার মন্তব্যে নেটওয়ার্কের কাজ থামাতে আহ্বান জানান। এই পদক্ষেপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের পোস্টে ছাত্র প্রতিনিধিদের স্বায়ত্তশাসন ও অতিরিক্ত কার্যকলাপের ওপর সীমা আরোপের দাবি করা হয়েছিল। নেটওয়ার্কের মতে, ক্যাম্পাসে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণের অভাব শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পোস্টটি রোববার বিকেলে ফেসবুকে প্রকাশিত হয় এবং দ্রুতই শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় জিএস আম্মার নেটওয়ার্কের ফেসবুক পেজে মন্তব্য করে শিক্ষক নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি মন্তব্যটি মুছে ফেলেননি, বরং তা রেখে দিয়েছেন যাতে তার অবস্থান স্পষ্ট থাকে। তার মন্তব্যে তিনি নেটওয়ার্কের কাজকে অতিরিক্ত তৎপরতা হিসেবে দেখলে, নিজের কাজকেও একই দৃষ্টিতে দেখতে বলছেন।
আম্মার জানান, তিনি মন্তব্যটি মুছে না ফেলে রেখেছেন কারণ তিনি নেটওয়ার্কের বিবৃতি ও তার নিজের মন্তব্যের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে চান। তিনি যুক্তি দেন যে, যদি নেটওয়ার্ক তার কাজকে অনুপযুক্ত বলে বিবেচনা করে, তবে তিনি তাদের বিবৃতি সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখবেন। এই পারস্পরিক সমালোচনা উভয় পক্ষের স্বাধীনতা প্রকাশের একটি রূপ হিসেবে তিনি উপস্থাপন করছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, আম্মার এই আহ্বানটি শুধুমাত্র নেটওয়ার্কের পোস্টের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংস্থার মধ্যে চলমান মতবিরোধের প্রতিফলন। তিনি বলেন, নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার পারস্পরিক আহ্বান একটি সমতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দাবি করে। এই ধরনের পারস্পরিক আহ্বান ক্যাম্পাসে স্বচ্ছতা ও সমঝোতার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি, তবে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্যের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে যে বিষয়টি এখনও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এই বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েরই মতামত প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান বাস্তবায়িত হয়, তবে তা শিক্ষার গুণগত মান ও ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, ক্যাম্পাসে কোনো সংগঠন বা নেটওয়ার্কের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আগে তার উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি স্পষ্টভাবে বোঝা উচিত। স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও নিয়মাবলী মেনে চলা জরুরি, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিরোধের সৃষ্টি না হয়। এছাড়া, সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত মন্তব্যের প্রভাব ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: ক্যাম্পাসে কোনো বিতর্কিত বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বিশ্লেষণ করুন এবং আপনার মতামত গঠন করুন। যদি আপনি কোনো নেটওয়ার্কের সমর্থক হন, তবে তার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও আইনগত ভিত্তি যাচাই করে নিন। একই সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার পরিবেশকে সমৃদ্ধ করবে।



