সরকার রোববার, রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুসারে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জুলফিকার আলম শিমুল এবং তিনজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল—ইব্রাহিম খলিল, মো. আইয়ুব আলী (আশরাফী) ও মো. মন্টু আলম—কে অব্যাহতি জানায়। আইন মন্ত্রণালয় একই দিনে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে উভয় পদে নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিমুলের নিয়োগ আদেশ বাতিল করে, তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল, মো. আইয়ুব আলী (আশরাফী) ও মো. মন্টু আলমের সহকারী অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশ নেন। তাদের অব্যাহতি সরকারকে নতুন আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে আদালতে প্রতিনিধিত্ব পুনর্গঠন করতে বাধ্য করবে।
অবশ্যই, এই পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পদে পরিবর্তন ঘটলে চলমান মামলায় প্রভাব পড়তে পারে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার।
বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠী সরকারকে বলেছে, এই ধরনের হঠাৎ পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক প্রেরণা থাকতে পারে এবং তা দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বতন্ত্রতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবে সরকার এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে তুলে ধরেছে।
অধিকন্তু, আইন মন্ত্রণালয়ের spokesperson বলেছেন, প্রজ্ঞাপনগুলো রাষ্ট্রপতির আদেশের ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে এবং সকল পদে নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়া সংবিধানিক বিধান অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে।
এই পদত্যাগের ফলে সুপ্রিম কোর্টে চলমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নতুন আইনজীবীকে দ্রুত প্রস্তুত করতে হবে। বিশেষত, সরকারী নীতি সংক্রান্ত বিরোধী মামলায় নতুন প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তা ত্বরান্বিত হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সরকার এই সময়ে নতুন আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে আদালতে তার কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে। একই সঙ্গে, বিরোধী দলগুলো এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক চাপে ব্যবহার করে সরকারের নীতি সমালোচনা করতে পারে।
প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের অব্যাহতি সরকারকে মানবসম্পদ পুনর্গঠন, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ আইনি চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতির সুযোগ দেয়।
অবশ্যই, এই পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপ হবে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা, যা আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত প্রকাশ করবে। নতুন নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পারদর্শিতা বিবেচনা করা হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের আইনি পরিবেশে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে নতুন কর্মী দলের মাধ্যমে আদালতে সরকারের অবস্থান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ডেপুটি ও তিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের অব্যাহতি দেশের আইনি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে, যা রাজনৈতিক ও আইনি উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে সরকার তার আইনগত কৌশল পুনর্গঠন করবে এবং বিরোধী দলগুলো এই পরিবর্তনকে পর্যবেক্ষণ করবে।



