অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ শজিব ভুঁইয়া আজ বাঙলামোটরের এনসিপি সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলীয় মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন। এনসিপি সমবায়ের প্রধান নাহিদ ইসলাম এই ঘোষণা দেন এবং উল্লেখ করেন, আসিফ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেবেন না।
সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম জানান, আসিফের প্রধান কাজ হবে এনসিপির প্রার্থী ও পার্টির স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্বাচনী কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। তিনি আরও যোগ করেন, আসিফের নেতৃত্বে গঠিত দলটি ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে এনসিপির জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
আসিফের নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি পার্টির মুখপাত্র হিসেবে মিডিয়া ও জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দায়িত্বও গ্রহণ করবেন। এই পদে তিনি পার্টির নীতি, পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রচারাভিযান সম্পর্কে স্পষ্ট ও সঠিক তথ্য প্রদান করবেন।
আসিফের এই পদ গ্রহণের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে; তিনি আসন্ন নির্বাচনে নিজে প্রার্থী হবেন না। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, আসিফের ভূমিকা হবে পার্টির কৌশলগত পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা, ব্যক্তিগতভাবে ভোটের জন্য লড়াই না করা।
এনসিপি এই পদক্ষেপকে পার্টির সংগঠন শক্তিশালীকরণ ও নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার একটি কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করেছে। পার্টির মুখপাত্র হিসেবে আসিফের উপস্থিতি মিডিয়ার দৃষ্টিতে এনসিপির বার্তা পৌঁছাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আসিফের এনসিপিতে যোগদানের পূর্বে, ১০ ডিসেম্বর তিনি ল্যান্ড, গ্রাম উন্নয়ন ও শহর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। সেই সময়ে তিনি দেশের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
পদত্যাগের পরের দিনই তিনি জানিয়ে দেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে চান এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান। তবে আজকের ঘোষণায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, এনসিপির জন্য কাজ করার সময় তিনি নিজে প্রার্থী হবেন না।
এনসিপি ইতিমধ্যে ৭ নভেম্বর কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে থাকে, যেখানে বিভিন্ন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কর্মী ও বিশ্লেষক অন্তর্ভুক্ত। আসিফের নতুন দায়িত্বের সঙ্গে এই কমিটির কাজ আরও সমন্বিত হবে বলে পার্টি নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, আসিফের মতো অভিজ্ঞ প্রশাসনিক ব্যক্তির এনসিপিতে যোগদান পার্টির সংগঠনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে। তবে তারা সতর্ক করেন, পার্টির জয় নিশ্চিত করতে নীতি, কর্মসূচি ও জনমত গঠনকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা দরকার।
এনসিপি অন্যান্য প্রধান দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, আসিফের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ, প্রচারাভিযান পরিকল্পনা ও ভোটার সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আসিফের নতুন দায়িত্বের ফলে এনসিপি নির্বাচনী কৌশলে কী পরিবর্তন আনবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে পার্টি ইতিমধ্যে তার অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা চালু করেছে।
সামগ্রিকভাবে, আসিফ মাহমুদের এনসিপিতে যোগদান ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ পার্টির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পার্টি তার অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে চায়।
এই পরিবর্তনটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন বিভিন্ন দল ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। আসিফের ভূমিকা কীভাবে পার্টির ভোটাভুটি ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



