অন্তর্বর্তী সরকারের পূর্ব উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)‑এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন। তিনি ঢাকার বাংলামোটরের এনসিপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলভুক্ত হয়ে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
এনসিপির বহু নেতা সোমবারের মধ্যাহ্নে এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেন। দলীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একত্রে জানিয়েছেন যে, আসিফ মাহমুদের যোগদান পার্টির সংগঠনগত শক্তি বৃদ্ধি করবে এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন এনসিপি কার্যালয়ে সন্ধ্যায় করা হয়। অনুষ্ঠানে পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি নতুন সদস্যের স্বাগত জানিয়ে পার্টির লক্ষ্য ও কৌশল সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন। সম্মেলনের সমাপ্তিতে আসিফ মাহমুদকে পার্টির সদস্যপদ প্রদান করা হয়।
আসিফ মাহমুদের এনসিপিতে যোগদান তার রাজনৈতিক পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি পূর্বে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে আজকের ঘোষণায় তিনি পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দলীয় কাঠামোর অংশ হয়ে গেছেন।
এর আগে, ২২ ডিসেম্বর সোমবার দুপুর ১১ টায় তিনি ঢাকা‑১০ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা ফর্ম সংগ্রহ করেন। সেই সময়ে তিনি স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা জানান। এই পদক্ষেপ তার রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনকে জোরদার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল।
ফর্ম সংগ্রহের পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগদানের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে ১২ ডিসেম্বর তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, তিনি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে স্বাধীনভাবে নির্বাচনে লড়াই করবেন। এই ঘোষণায় তার স্বতন্ত্র অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গুজবের পরেও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে স্বাধীন প্রার্থিতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে আজকের এনসিপি‑এর জরুরি সম্মেলনে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে পার্টির সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিশ্চিত হয়েছে। এই পরিবর্তন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে তার কৌশলগত পুনর্মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলীয় নেতারা আজকের ঘোষণাকে এনসিপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে স্বীকার করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, আসিফ মাহমুদের অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক পার্টির সংগঠনকে শক্তিশালী করবে এবং ভোটার ভিত্তি বিস্তারে সহায়তা করবে। এছাড়া তিনি পার্টির নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
আসিফ মাহমুদের এনসিপিতে যোগদান দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে। তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও জনমত গঠন ক্ষমতা পার্টির জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই ধরনের যোগদান পার্টির প্রভাব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
ভবিষ্যতে তিনি কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এনসিপি ইতিমধ্যে তার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পার্টি তার সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে, যা ভোটারদের কাছে তার স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখে পার্টির নীতি তুলে ধরবে।
সংক্ষেপে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এনসিপিতে যোগদান দেশের রাজনৈতিক পরিসরে একটি নতুন সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে। তার অভিজ্ঞতা, স্বতন্ত্র ভাবনা এবং পার্টির সংগঠনগত কাঠামো একত্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারে। এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী ধাপ হবে পার্টি ও নতুন সদস্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা।



