বিসিসিআই-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অ্যাপেক্স কাউন্সিল সম্প্রতি ডিআরএস (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) কে দেশীয় ক্রিকেটে আনতে পারে কিনা তা নিয়ে আলোচনা করেছে। সভায় মূল বিষয় হিসেবে প্রযুক্তি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়কে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ডিআরএস বর্তমানে আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে দেশীয় টুর্নামেন্টে এখনও এটি প্রয়োগ করা হয়নি। ভিজয় হাজার ট্রফি, রানজি ট্রফি, ইডিএল ইত্যাদি প্রধান প্রতিযোগিতায় রেফারির সিদ্ধান্তে কোনো প্রযুক্তিগত সহায়তা নেই।
কাউন্সিলের সদস্যরা উল্লেখ করেছেন যে, ডিআরএস সিস্টেমের জন্য ক্যামেরা, স্ন্যাপ শট, হট স্পট এবং বোলিং স্পিডারসহ বহু যন্ত্রপাতি দরকার, যার খরচ একক ম্যাচে লক্ষাধিক টাকা হতে পারে। এ ধরনের ব্যয়কে সামলাতে হলে বিসিসিআইকে অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ বা খরচ ভাগাভাগি করার উপায় খুঁজতে হবে।
বিসিসিআইের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক সিরিজ ও আইপিএল চালানোর জন্য ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ডিআরএসের জন্য অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ করা কঠিন বলে সদস্যরা মত পোষণ করেছেন।
কাউন্সিলের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি ডিআরএস ধীরে ধীরে প্রয়োগ করা হয়, তবে প্রথমে উচ্চ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে—যেমন ভিজয় হাজার ট্রফি—এটি চালু করা যেতে পারে। তবে এ জন্যও স্পষ্ট আর্থিক পরিকল্পনা ও সময়সূচি প্রয়োজন।
কিছু সদস্য ডিআরএসের সম্ভাব্য সুবিধা তুলে ধরেছেন, যেমন ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং খেলোয়াড়ের স্বার্থ রক্ষা। তবে এই সুবিধাগুলোকে ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হলে, বর্তমান আর্থিক অবস্থা তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলছে।
কাউন্সিলের একটি উপকমিটি ডিআরএসের প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা ও খরচ বিশ্লেষণ করে একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করেছে। এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সরঞ্জাম ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণসহ মোট ব্যয় প্রায় একশো কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্পনসরশিপ বা বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কিছু খরচ কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে স্পনসরদের আগ্রহ নিশ্চিত করতে হলে ডিআরএসের ব্যবহারিকতা ও দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রমাণ করতে হবে।
কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সভার শেষে বলা হয়েছে যে, ডিআরএসের প্রয়োগের বিষয়ে আরও বিশদ গবেষণা ও আর্থিক সমীক্ষা চালিয়ে যাবে এবং পরবর্তী সভায় ফলাফল উপস্থাপন করবে।
এদিকে, দেশীয় ক্রিকেটের খেলোয়াড় ও কোচরা ডিআরএসের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। তারা বিশ্বাস করেন যে, প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ম্যাচের ন্যায়পরায়ণতা বাড়বে এবং খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাসে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখযোগ্য যে, ডিআরএস ছাড়া চলমান দেশীয় মৌসুমে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। বর্তমান শিডিউল অনুযায়ী ভিজয় হাজার ট্রফি, রানজি ট্রফি ও ইডিএল ইত্যাদি টুর্নামেন্টের সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে।
অবশেষে, অ্যাপেক্স কাউন্সিলের পরবর্তী সভা বছরের শেষের দিকে নির্ধারিত হয়েছে। সেই সভায় ডিআরএসের আর্থিক পরিকল্পনা, সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে চূড়ান্ত মতামত গৃহীত হবে।



