সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সোমবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) উদ্বোধনী ম্যাচে রংপুর রাইডার্স চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৭ উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে শীর্ষে উঠে। রাইডার্সের ফাহিম আশরাফ ৩.৫ ওভারে ১৭ রান conced করে পাঁচটি উইকেট নেয়, ফলে চট্টগ্রাম ১০২ রানেই আটকে যায়। রাইডার্সের জয় দলকে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করে, আর শীর্ষস্থানীয় পারফরম্যান্সের প্রশংসা বাড়িয়ে দেয়।
চট্টগ্রাম ইনিংসের সূচনা তীব্র ছিল না; প্রথম ওভারে নাহিদ রানা অডাম রসিংটনকে আউট করে দলকে প্রাথমিক শক দেয়। তৃতীয় ওভারে নায়েম শেখ তৃতীয় ওভারে একটানা ২১ রান যোগ করে, তিনটি চতুর্থি এবং একটি ছয় দিয়ে আক্রমণ চালায়, যা চট্টগ্রামের স্কোরে সাময়িক উত্থান ঘটায়।
ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি২০-এ ফিরে আসা মুস্তাফিজুর রহমানের ফিরে আসা ম্যাচে তৎপরতা দেখা যায়; তিনি ২০ বলে ৩৯ রান করেন এবং একটি কাটার নায়েমের মাধ্যমে স্টাম্পে আঘাত করে আউট হন। তার উপস্থিতি চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইনআপে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
ফাহিমের বোলিং রোলের মূল মুহূর্তে তিনি দ্বিতীয় ওভারে মাহফিজুল ইসলামকে এক রানেই আউট করেন। এরপর ১১তম ওভারে তিনি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন, যার মধ্যে চট্টগ্রামের ক্যাপ্টেন মাহেদি হাসানও এক রানেই আউট হন। শেষ পর্যন্ত ১৮তম ওভারে শোরিফুল ইসলামকে আউট করে তিনি পাঁচটি উইকেটের ফাইভার সম্পন্ন করেন, যা চট্টগ্রামের মোট স্কোরকে ১০২ রানে সীমাবদ্ধ রাখে।
চট্টগ্রাম রয়্যালস ১০২ রানে আটকে যাওয়ার পর রংপুর রাইডার্সের লক্ষ্য সহজ হয়ে যায়। ড্যাভিড মালান এবং লিটন দাসের উন্মুক্ত অংশীদারিত্ব ৯১ রান গড়ে তুলে রাইডার্সকে শক্তিশালী শুরুর ভিত্তি দেয়। উভয় ব্যাটসম্যানের সমন্বয় দলকে দ্রুত রানের প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়তা করে।
লিটন দাসের আক্রমণাত্মক খেলা বিশেষভাবে নজর কাড়া; তিনি এক ওভারে তিনটি ছয় এবং একটি চতুর্থি মারেন, যা রাইডার্সকে দ্রুত স্কোর বাড়াতে সাহায্য করে। তবে ৩১তম বলেই মুকিদুল ইসলাম তাকে ৪৭ রান নিয়ে আউট করেন, এবং একই ওভারে তাওহিদ হ্রিদয়কেও সস্তা দামে আউট করেন।
ড্যাভিড মালান ৪৮ বলে ৫১ রান সংগ্রহ করেন, তবে শেষের দিকে জয় নামের বোলারকে আউট করে দলের স্কোরে সামান্য ঘাটতি তৈরি হয়। তার পরের ওভারে খুশদিল (খুশদিল শাহ) জয়ের শেষ ওভারে ছয় মারেন, যা রাইডার্সকে পাঁচ ওভারের আগে লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে।
রাইডার্সের চূড়ান্ত স্কোর চট্টগ্রামের ১০২ রানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, ফলে দলটি সহজে জয় নিশ্চিত করে। জয় নামের বোলারকে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখতে না পারলেও রাইডার্সের ব্যাটিং লাইনআপের সমন্বয় এবং ফাহিমের বোলিং পারফরম্যান্স দলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যায়।
ম্যাচের পর রাইডার্সের খেলোয়াড় ও কোচরা জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন এবং দলের পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করেন। রাইডার্সের শৈল্পিক জয় দলকে পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রাখবে, এবং ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে।
এই জয় রংপুর রাইডার্সের বিপিএল শুরুর জন্য শক্তিশালী সূচনা নির্দেশ করে, যেখানে ফাহিম আশরাফের বোলিং এবং লিটন দাসের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দলকে প্রধান প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।



