জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে একমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থী গৌরব ভৌমিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বামপন্থী ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
গৌরব ভৌমিক ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বর্তমানে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জকসু সংসদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সামাজিক‑সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের রেকর্ড রাখেন।
প্রার্থীর মূল প্রতিশ্রুতি হল সকল শিক্ষার্থীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চর্চা করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তিনি বিশেষভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি – মন্দির নির্মাণ –কে অগ্রাধিকার দিতে চান। পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ধর্মীয় কার্যক্রমকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে, এসবের জন্য বাজেট বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
মওলানা ভাসানী ব্রিগেডের ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের তীব্রতা বৃদ্ধি, স্টুডেন্ট সেফটি লাইন স্থাপন, অ্যান্টি‑বুলিং নীতি কার্যকর করা এবং হয়রানি অভিযোগের দ্রুত সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নীতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সমৃদ্ধ পরিবেশ গঠনে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জকসু নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় বিভিন্ন পদে প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে চারজন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে নয়জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে পাঁচজন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে পাঁচজন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে চারজন প্রার্থী তালিকাভুক্ত। আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে আটজন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে সাতজন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে সাতজন, পরিবহন সম্পাদক পদে চারজন, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে দশজন, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে সাতজন এবং সদস্য পদে সাতজন প্রার্থী তালিকাভুক্ত।
মহিলা প্রার্থীদের জন্যও সমানভাবে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে তিনজন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে তিনজন, সহ‑সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে দুইজন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে দুইজন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে চারজন, পাঠাগার সমিতি ইত্যাদি পদে প্রার্থীর সংখ্যা নির্ধারিত।
প্রতিটি প্যানেল ও প্রার্থীর লক্ষ্য স্পষ্ট: শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান রাখা। গৌরব ভৌমিকের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, নির্বাচিত হলে সকল ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীর জন্য কাজ করবেন এবং বিশেষ করে সনাতনী শিক্ষার্থীদের মন্দির নির্মাণের দাবি পূরণে মনোযোগ দেবেন। এছাড়া, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চর্চা সকলের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে, এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য বাজেট বৃদ্ধি করা হবে।
এই নির্বাচনের ফলাফল জকসু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি এবং ছাত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাবিত নীতিগুলো বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা ভোটের পরেই স্পষ্ট হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: নির্বাচনের আগে প্রতিটি প্রার্থীর ম্যানিফেস্টো ভালোভাবে পড়ুন, তাদের প্রতিশ্রুতি আপনার নিজস্ব চাহিদা ও প্রত্যাশার সঙ্গে তুলনা করুন এবং ভোটের মাধ্যমে আপনার মতামত প্রকাশ করুন। আপনার ভোট কেবল এক ব্যক্তির নয়, পুরো ক্যাম্পাসের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হবে।



