সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী ২৯ ডিসেম্বর সোমবার চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রংপুর রাইডার্সের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সিলেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। স্টেডিয়াম ভরা ভক্তদের সামনে তিনি দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
ম্যাচটি সিলেটের নিজস্ব মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় ভক্তদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উষ্ণ আবহাওয়া, ইলিশের গন্ধ আর তীব্র ক্রীড়া উন্মাদনা একসাথে মিশে একটি রঙিন পরিবেশ তৈরি করে।
ফাহিম আল চৌধুরী স্পষ্ট করে জানান, যদিও তিনি বি.পি.এল‑এর অংশ, তবুও এই লিগকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করার সময় তার নেই। তিনি বলেন, “আমি বি.পি.এল‑কে ঘনিষ্ঠভাবে দেখার জন্য সময় বের করতে পারছি না।” এই মন্তব্য তার ব্যস্ত শিডিউল ও অগ্রাধিকারকে প্রকাশ করে।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, সিলেট টাইটান্স যদি সেমিফাইনাল পর্যন্ত অগ্রসর হয়, তবে তিনি পাকিস্তান ও ভারতের খেলোয়াড়দের নিয়ে আসতে প্রস্তুত। তিনি এই সম্ভাব্য সংযোজনকে দলকে শক্তিশালী করার একটি কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করেন।
এ বিষয়ে তিনি একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন, “যদি সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি, তবে আমি খেলোয়াড়দের জন্য সম্পূর্ণ ব্ল্যাংক চেক দিয়ে দেব।” এই বাক্যটি তার আর্থিক সহায়তা ও দলকে উন্নত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
ফাহিম আল চৌধুরীর মতে, বর্তমান বি.পি.এল‑এর কোনো দলই তাকে বিশেষভাবে শক্তিশালী মনে হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, “মাথার মধ্যে আইপিএলটাই থাকে, বি.পি.এল‑এর কোনো দল আমাকে প্রভাবিত করে না।” এই মন্তব্য তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁককে নির্দেশ করে।
আইপিএল‑এর প্রতি তার আগ্রহ স্পষ্ট, যদিও তিনি দেশের লিগে কাজ করছেন। তিনি স্বীকার করেন, “আইপিএল নিয়ে আমি সবসময় ভাবি, তা আমার মনোযোগের মূল কেন্দ্র।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
ইংরেজি ক্রিকেটার মঈন আলি সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলতে যাচ্ছেন, এ খবরও উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী উল্লেখ করেন। তিনি মঈন আলিকে “সিলেটের জামাই” বলে বর্ণনা করেন, যা স্থানীয় সংস্কৃতিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক।
ফাহিম আল চৌধুরী বলেন, “মঈন আলি আমাদের সিলেটের জামাই; যখন জামাইয়ের বাড়ি থেকে ডাক শোনায়, তখন না বলা যায় না।” এই উক্তি মঈন আলির দলীয় ভূমিকা ও তার আগমনের গুরুত্বকে রঙিনভাবে প্রকাশ করে।
মঈন আলির যোগদানের ফলে সিলেট টাইটান্সের ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা যোগ হবে বলে আশা করা যায়। তার উপস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে এবং দলের কৌশলগত বিকাশে সহায়তা করবে।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, মঈন আলির সঙ্গে কাজ করা সিলেটের জন্য একটি গর্বের বিষয়, কারণ তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রমাণিত পারফরম্যান্সের ধারক। তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা টাইটান্সের গেম প্ল্যানকে সমৃদ্ধ করবে।
সিলেট টাইটান্সের বর্তমান অবস্থান ও পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি সম্পর্কে ফাহিম আল চৌধুরী কোনো নির্দিষ্ট স্কোর বা পরিসংখ্যান প্রকাশ না করেও দলকে দৃঢ় মনোভাবের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দলকে বলছেন, “আমরা পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত এবং সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করব।” এই বক্তব্যে তার নেতৃত্বের স্বর স্পষ্ট।
ম্যাচের পর ভক্তদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সংলাপে ফাহিম আল চৌধুরী বললেন, “সিলেটের সমর্থকরা আমাদের জন্য অমূল্য, তাদের উৎসাহই আমাদের চালিকা শক্তি।” এই কথায় তিনি স্থানীয় সমর্থনের গুরুত্বকে স্বীকার করেন।
সিলেট টাইটান্সের এই মৌসুমে লক্ষ্য স্পষ্ট: সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়দের সংযোজনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করা। ফাহিম আল চৌধুরীর পরিকল্পনা ও মন্তব্য এই লক্ষ্যের দিকে নির্দেশ করে।
উপদেষ্টার মন্তব্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, যদিও তিনি বি.পি.এল‑কে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করতে না পারলেও, তার দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল সিলেট টাইটান্সের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিলেটের ভক্তরা এখন এই নতুন দৃষ্টিকোণ ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের সংযোজনের অপেক্ষায়, এবং দলটি পরবর্তী ম্যাচে কীভাবে পারফর্ম করবে তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।



