১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের জন্য নামমাত্র পত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা আজ সন্ধ্যা ৫টায় শেষ হচ্ছে, ফলে দেশের সব নির্বাচনী অফিসে শেষ মুহূর্তের তাড়া দেখা যাচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, প্রার্থীরা দেশের ৩০০টি সংসদীয় এলাকা জুড়ে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পত্র জমা দিচ্ছেন, আর বেশিরভাগই শেষ দিনেই এই কাজ সম্পন্ন করছেন।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ পর্যন্ত মোট ৩,১৪৪টি নামমাত্র পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত মাত্র ১৬৬টি পত্রই জমা হয়েছিল, বাকি অধিকাংশ পত্র আজকের মধ্যেই প্রত্যাশিত।
নামমাত্র পত্র জমা দেওয়ার জন্য মোট ৬৯টি রিটার্নিং অফিসার দায়িত্বে আছেন; এদের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুইজন কমিশনার, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের তিনজন নির্বাচন অফিসার, এবং ৬৪টি জেলা উপকমিশনার অন্তর্ভুক্ত।
ইলেকশন কমিশন ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের ও গণভোটের সময়সূচি প্রকাশ করে। নির্ধারিত হয়েছে যে, নামমাত্র পত্রের যাচাই কাজ ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে, আর প্রার্থীদের প্রত্যাহার শেষ হবে ২০ জানুয়ারি।
প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত, এবং প্রচারাভিযান ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ পর্যন্ত চলবে, যা ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হবে।
ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি-নির্বাচিত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ আজ ইলেকশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ইটিআই) আগারগাঁওতে রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুস আলীর কাছে পত্র জমা দিয়েছেন। মো. ইউনুস আলী একই সঙ্গে ঢাকা অঞ্চলের নির্বাচন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী মুরাদ হোসেন, যিনি ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের যৌথ সচিব, একই স্থানে ঢাকা-১৩ নির্বাচনী এলাকার জন্য পত্র জমা দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা-১৫-এ বিএনপি-নির্বাচিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, যিনি ঢাকা শহরের যুবদল নেতা, ইটিআই ভবনে পত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি মিডিয়ার উপস্থিতি না থাকলেও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন।
বিএনপি, জামায়াত ইত্যাদি অন্যান্য দলও একই দিনে তাদের প্রার্থীদের পত্র জমা দিয়ে শেষ মুহূর্তের তাড়া বাড়িয়ে তুলেছে।
নামমাত্র পত্রের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী যাচাই পর্যায়ে প্রতিযোগিতার তীব্রতা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী কমিশনের পর্যালোচনা প্রক্রিয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।
আসন্ন যাচাই ও প্রত্যাহার সময়সীমা পার হওয়ার পর, পার্টিগুলি তাদের প্রচার কৌশল নির্ধারণ করবে এবং ভোটারদের কাছে নিজেদের মঞ্চ প্রস্তুত করবে।
শেষ দিন পর্যন্ত নামমাত্র পত্র জমা দেওয়ার এই তীব্রতা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপ্রকোপ সৃষ্টি করবে এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



