বাগদাদে ইরাকের নতুন সংসদ সোমবার প্রথমবারের মতো অধিবেশন শুরু করবে, যেখানে নির্বাচনের পর পার্লামেন্টে কে স্থান পাবে এবং পরবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পদে কে আসবেন, তা নির্ধারণের দায়িত্ব থাকবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নভেম্বর মাসে ফেডারেল সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে সীমাবদ্ধ হয়ে ক্যারেটেকার সরকারে রূপান্তরিত হয়েছে, ফলে তিনি নতুন জোট গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
ফেডারেল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শিয়া কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক (SCF) দ্বারা প্রস্তাবিত সরকারকে অস্বীকৃতি জানিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা অস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়। এই রায়ের ফলে শিয়া কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কের নেতৃত্বে থাকা দলগুলোকে আবার পার্লামেন্টে প্রভাব বজায় রাখতে হবে, আর শাসনকালীন অস্থিরতা বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি স্বাধীন তালিকা গঠন করে নির্বাচনে প্রায় ৪৬টি আসন জয় করেন, যা মোট ৩২৯টি আসনের প্রায় ১৪%। তবে কোর্টের রায়ের পর তিনি আবার শিয়া কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে ফিরে আসতে বাধ্য হন, যা তাকে পূর্বের জোটের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।
SCF-র নেতৃত্বে থাকা অনেক সদস্য পার্লামেন্টের সদস্য নয়; তারা বাহ্যিক শক্তি হিসেবে কাজ করে এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে। এই গোষ্ঠীগুলোকে এখন আল-সুদানির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, যাতে তিনি নতুন জোট গঠন করে সরকার গঠন করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর পদে কে আসবেন তা নির্ধারণের পাশাপাশি SCF-কে ঐতিহ্যবাহী শিয়া পার্টিগুলোর হ্রাসমান প্রভাব এবং সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠীর বাড়তি উপস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। নির্বাচনে সশস্ত্র গোষ্ঠীসমূহের পার্লামেন্টে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন জয় করার ফলে তাদের কণ্ঠস্বর বাড়েছে।
সশস্ত্র গোষ্ঠীসমূহ দীর্ঘদিন ধরে SCF-র অংশ হিসেবে কাজ করেছে, তবে ইরান‑সমর্থিত, পশ্চিমা বিরোধী গোষ্ঠীর উপস্থিতি এখন পূর্বের তুলনায় বেশি। এই পরিবর্তন ইরাকের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং ইরানের প্রভাব বাড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারী শিয়া নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।
SCF প্রায় ১৮০টি আসন নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে ৮০ থেকে ৯০টি আসন এমন দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যারা ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। এই গোষ্ঠীর পার্লামেন্টে উপস্থিতি সরকার গঠনের সময় গুরুত্বপূর্ণ চাপে পরিণত হতে পারে।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে SCF-র অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী নির্ধারণ এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোট গঠন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় আল-সুদানি কীভাবে তার স্বাধীন তালিকার অর্জিত আসন ব্যবহার করে প্রভাব বাড়াতে পারবেন এবং SCF কীভাবে সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাহিদা সামলাবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।



