ইয়ালোভা প্রদেশের এলমালিক গ্রামে রাত ২টায় (গ্রীনউইচ সময় ২৩:০০) নিরাপত্তা বাহিনীর তাড়া-অভিযানে ছয়জন ইসিল (আইএসআইএস) যোদ্ধা এবং তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়। তাড়া চলাকালীন গুলিবর্ষণ হয়, ফলে আটজন পুলিশ এবং একজন রাতের রক্ষী আহত হন। তাড়া-অভিযানটি তুরস্কের অভ্যন্তর মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত ১৩টি প্রদেশে একসাথে পরিচালিত ১০৮টি রাতের তাড়া-অভিযানের একটি অংশ ছিল।
অভ্যন্তর মন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া উল্লেখ করেন, ছুটির সময়কালে ইসিলের ঘুমন্ত সেলগুলোকে লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপকভাবে অভিযান চালাচ্ছে। তাড়া-অভিযানটি ইস্তাম্বুলের দক্ষিণে অবস্থিত এলমালিক গ্রামাঞ্চলে একটি বসতিতে ঘটেছে, যেখানে বাসিন্দারা সাধারণভাবে বসবাস করতেন। তাড়া-অভিযানের সময় গৃহের ভিতরে গুলিবর্ষণের ফলে ত্রিপক্ষীয় মৃত্যু ও আঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
মৃত্যুবরণকারী তিনজন পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে দুজন গৃহের প্রবেশে শুটিংয়ে গুলি পেয়ে মারা যান, আর তৃতীয়জন গুলিবর্ষণের পরপরই আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ছয়জন ইসিল যোদ্ধা গুলিবর্ষণে নিহত হয়, তাদের পরিচয় ও পটভূমি এখনও তদন্তাধীন। আহত আটজন পুলিশ এবং রাতের রক্ষীকে নিকটস্থ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
তাড়া-অভিযানের সময় গৃহের ভিতরে পাঁচজন নারী এবং ছয়জন শিশু নিরাপদে স্থানান্তরিত করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে নিয়ে যায় এবং কোনো আহতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। গৃহের আশেপাশের বাসিন্দা ও গাড়িগুলোকে নিরাপত্তা জোনের বাইরে রাখা হয়, যাতে অতিরিক্ত ক্ষতি রোধ করা যায়।
বুরসা প্রদেশের বিশেষ বাহিনীও তাড়া-অভিযানে সহায়তা করে, তারা এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব পালন করে। তাড়া-অভিযানের পরপরই ইয়ালোভা গভার্নরেট পাঁচটি নিকটবর্তী স্কুলে ক্লাস বন্ধের নির্দেশ দেয়, যাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
অভ্যন্তর মন্ত্রীর মতে, ছুটির সময়কালে ইসিলের ঘুমন্ত সেলগুলোকে লক্ষ্য করে ১৩টি প্রদেশে মোট ১০৮টি তাড়া-অভিযান চালানো হয়েছে। এই তাড়া-অভিযানগুলোতে ইসিলের গোপন ঘাঁটি, অস্ত্র সংরক্ষণস্থল এবং পরিকল্পিত হামলার প্রস্তুতি ধ্বংসের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তাড়া-অভিযানের সময় সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর রিপোর্টে ১২৪টি স্থানে তাড়া-অভিযান চালিয়ে ১১৫জন ইসিল সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তে জানা যায়, এই সন্দেহভাজনরা ছুটির সময়কালে তুরস্কের অ-ইসলামী সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ পরিকল্পনা করছিল। ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর অফিস এই তথ্য নিশ্চিত করে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা জানায়।
ইসিলের সম্ভাব্য আক্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কে নিরাপত্তা তথ্যের সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা বিশেষ করে অ-মুসলিম লক্ষ্যবস্তুদের ওপর হামলা চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে তুর্কি পুলিশ অতিরিক্ত সতর্কতা বাড়িয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
ইসিলের বিরুদ্ধে তুরস্কের সামরিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীরও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। এই মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ও উত্তর-পূর্ব অংশে ইসিলের ৭০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণগুলো সিরিয়ার পালমিরা শহরে দুইজন আমেরিকান সৈন্য এবং এক অনুবাদক নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হয়।
তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তে অবস্থিত তুরস্কের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে বিবেচনা করে, ইসিলের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে। সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসিলের ঘুমন্ত সেলগুলোকে ধ্বংস করে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা রোধ করা হবে।
এই ঘটনার পরপরই তুর্কি সরকার স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করে, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা অস্বাভাবিক গতি-প্রকৃতি লক্ষ্য করলে তা সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা দপ্তরে জানাতে। তাড়া-অভিযান ও গ্রেফতার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, তুরস্কের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



