পিভিআর ইনক্স, দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রিমিয়াম সিনেমা হল চেইন, ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সৎযজিৎ রায়ের ক্লাসিক চলচ্চিত্র ‘আরণ্যের দিন রাত’কে ৪কে রিস্টোরেড প্রিন্টে পুনরায় বড় পর্দায় উপস্থাপন করবে। এই বিশেষ প্রদর্শনীটি নির্বাচিত শহরগুলোতে একসাথে শুরু হবে, যা চলচ্চিত্রের নতুন প্রজন্মের দর্শকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত।
পিভিআর ইনক্সের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে দেশের সেরা চলচ্চিত্রগুলোকে পুনরায় জীবন্ত করে তোলার লক্ষ্য, যাতে সিনেমা কেবল বিনোদন নয়, বরং জাতীয় স্মৃতির একটি জীবন্ত আর্কাইভ হিসেবে কাজ করে। আরণ্যের দিন রাতের পুনঃপ্রদর্শনই এই নীতির এক উদাহরণ, যেখানে ক্লাসিকের মূল সত্তা বজায় রেখে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে।
‘আরণ্যের দিন রাত’ ১৯৬৯ সালে মুক্তি পায় এবং তৎকালীন সময়ে সৎযজিৎ রায়ের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করে। ছবিতে চারজন তরুণ শহুরে মানুষ জহরখণ্ডের জঙ্গলে এক অবকাশের সফর করে, যেখানে তারা নগর জীবনের একঘেয়েমি থেকে পালিয়ে যায়। তবে এই যাত্রা তাদের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি, প্রেম, সামাজিক মর্যাদা এবং আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেয়।
চলচ্চিত্রটি সামাজিক শ্রেণী ও পরিচয় রাজনীতির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করে, যা আজকের সময়েও প্রাসঙ্গিক। রায়ের সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক সম্পর্কের জটিলতা ছবিতে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, ফলে দর্শকরা নিজেরাই সমাজের কাঠামো নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য হয়।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শর্মিলা টাগোর, অপরনা সেন এবং সিমি গারেওয়ালসহ বিশিষ্ট শিল্পীদের অভিনয় ছবিটিকে অতুলনীয় মান দেয়। তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে চরিত্রগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও মানবিকতা জীবন্ত হয়ে ওঠে, যা চলচ্চিত্রের আবেগময় গভীরতা বাড়িয়ে দেয়।
চলচ্চিত্রটি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একই নামের উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি, এবং রায়ের পরিচালনায় এটি এক বহুমাত্রিক মানবিক নাটক হিসেবে রূপান্তরিত হয়। উপন্যাসের মূল থিম—লিঙ্গ, শ্রেণী, নৈতিক দ্বিধা এবং সামাজিক কাঠামোর সমালোচনা—ফিল্মে সূক্ষ্মভাবে সংযোজিত হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য সমৃদ্ধ বোধগম্যতা তৈরি করে।
এই পুনঃপ্রদর্শনের জন্য মূল ফিল্মের ৪কে রেস্টোরেশন কাজটি বিশেষজ্ঞ টিমের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। পুরনো ফিল্মের রঙ, শব্দ এবং ছবির গুণগত মানকে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে, ফলে বড় পর্দায় দেখলে দর্শকরা যেন সময়ের স্রোতে ফিরে গিয়ে মূল অভিজ্ঞতা পুনরায় উপভোগ করতে পারেন।
পিভিআর ইনক্সের লিড স্ট্র্যাটেজিস্ট নিহারিকা বিজলি উল্লেখ করেছেন, পুনঃপ্রদর্শনটি একটি সম্মান এবং নতুন প্রজন্মের জন্য ক্লাসিককে বড় পর্দায় দেখার সুযোগ। তিনি আরও বলেন, সিনেমা আমাদের সাংস্কৃতিক স্মৃতির একটি জীবন্ত সংরক্ষণ, এবং রায়ের চলচ্চিত্রগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্মে প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আরণ্যের দিন রাতের ৪কে রিস্টোরেশনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়।
পিভিআর ইনক্সের এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র একক চলচ্চিত্রের পুনঃপ্রদর্শন নয়, বরং দেশের এবং বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলোকে পুনরায় বড় পর্দায় তুলে ধরার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। সময়ে সময়ে এমন ক্লাসিকগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করে দর্শকদের কাছে নতুন করে উপস্থাপন করা হয়, যা সিনেমার ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে।
প্রদর্শনীটি কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই এবং হায়দ্রাবাদসহ প্রধান মেট্রো শহরে শুরু হবে, যেখানে পিভিআর ইনক্সের সর্বোচ্চ মানের থিয়েটারগুলোতে ৪কে ফরম্যাটে চলচ্চিত্রটি উপভোগ করা যাবে। টিকিটের বুকিং অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই উপলব্ধ, এবং আগাম বুকিং করলে বিশেষ ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে।
চলচ্চিত্রের ভক্ত এবং নতুন দর্শক উভয়ই এই সুযোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন, কারণ এটি রায়ের কাজের গভীরতা ও শিল্পকর্মের সৌন্দর্যকে আধুনিক সময়ের সাথে সংযুক্ত করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য এই ক্লাসিকের পুনঃপ্রদর্শন একটি শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা, যা তাদেরকে ভারতীয় সিনেমার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করবে।
সিনেমা প্রেমিকদের জন্য এই পুনঃপ্রদর্শনটি একটি অনন্য সুযোগ, যেখানে তারা রায়ের মাস্টারপিসকে উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল ও সাউন্ডের সঙ্গে উপভোগ করতে পারবেন। তাই, যদি আপনি ক্লাসিক সিনেমার প্রতি আগ্রহী হন, তবে এই বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে সৎযজিৎ রায়ের শিল্পকর্মের নতুন দিক আবিষ্কার করুন।



