গত শনিবার লিভারপুল ও উলভসের প্রিমিয়ার লিগের মুখোমুখি ম্যাচটি কেবল ফলাফলের জন্যই নয়, বরং এক বছর আগে ঘটে যাওয়া ট্র্যাজেডির স্মরণে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সমাবেশ হিসেবে নজরে এলো। জুলাই মাসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ বছর বয়সে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড দিয়াগো জোতা প্রাণ হারানোর পর, দুই ক্লাবের ভক্তরা অ্যানফিল্ডে একত্রিত হয়ে তার প্রতি সম্মান জানাতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে।
দিয়াগো জোতার আকস্মিক মৃত্যু ফুটবলের জগতে শোকের স্রোত তৈরি করেছিল, তবে তার স্মৃতি লিভারপুল ও উলভস উভয়ের হৃদয়ে অম্লান রয়ে গেছে। এই শোকের মুহূর্তে, শনিবারের ম্যাচটি প্রথমবারের মতো উভয় দলের সমর্থকদের সম্মিলিত উপস্থিতি দেখায়, যা ক্রীড়া জগতের মানবিক দিককে পুনরায় উজ্জ্বল করে।
ম্যাচের আগে অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে জোতার পরিবারকে স্বাগত জানাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তার দুই সন্তান, দিনিস ও দুয়ার্তে, মাঠে মাসকটের ভূমিকায় উপস্থিত হন, আর জোতার স্ত্রী রুতে কার্দোসোও গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। পুরো গ্যালারিতে “দিয়াগো জোতা, চিরকাল আমাদের হৃদয়ে” শিরোনামের ব্যানার ঝুলিয়ে রাখা হয়, যা ভক্তদের সম্মানসূচক মনোভাবকে দৃঢ় করে।
ম্যাচের শুরুর মুহূর্তে পরিবেশে এক ধরনের ভজনময় গম্ভীরতা দেখা যায়। ১৮তম মিনিটে উলভসের সমর্থকরা জোতার স্মরণে গান গেয়ে তোলেন, যার সঙ্গে লিভারপুলের ভক্তরা তালি দিয়ে সাড়া দেন, একে অপরের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে। দু’মিনিট পরে, লিভারপুলের সমর্থকরা নিজস্ব সুরে গাইতে শুরু করেন, ফলে অ্যানফিল্ডের পুরো দর্শকসভার মনোযোগ একত্রিত হয়ে জোতার প্রতি সম্মান জানাতে উঠে দাঁড়ায়।
উলভসের সমর্থকরাও একইভাবে সাড়া দেন, যা দুই দলের ভক্তদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সংহতির দৃশ্য তৈরি করে। ম্যাচের আগের রাতে উলভসের স্কোয়াডের সদস্যরা জোতার স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, যা ম্যাচের সময়ের এই সমবেত সম্মানকে আরও গভীর করে তুলেছে।
লিভারপুলের প্রধান কোচ আর্নে স্লট ম্যাচের পর সমর্থকদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং জোতার স্মৃতিকে সম্মানিত করার জন্য উভয় দলের ভক্তদের একত্রে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এমন মুহূর্তে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষের হৃদয়ে সংযোগের সেতু হয়ে ওঠে।”
ম্যাচের ফলাফল যদিও মূল লক্ষ্য ছিল না, তবু দুই দলই মাঠে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচটি শেষ করে। উভয় দলের খেলোয়াড়রা জোতার স্মরণে একে অপরকে সম্মান জানিয়ে, ম্যাচের শেষে একসাথে হাততালি দিয়ে সমাপ্তি টানে।
এই ধরনের সম্মিলিত সম্মানসূচক কার্যক্রম ক্রীড়া জগতে মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দেয় এবং ভক্তদের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতির সেতু গড়ে তোলে। জোতার পরিবার ও ভক্তদের জন্য এই সমাবেশটি একটি সান্ত্বনা এবং তার স্মৃতিকে চিরন্তন করার একটি উপায় হিসেবে কাজ করেছে।
আগামী সময়ে লিভারপুল ও উলভসের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই ধরনের সম্মানসূচক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করা যায়, যা ক্রীড়া জগতের মানবিক দিককে আরও উজ্জ্বল করবে।



