চট্টগ্রাম শহরের এনায়েত বাজার, আসকার দীঘির পার, জামাল খান, ঝাউতলা, নন্দন কানন ও হেম সেন লেনসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় আজ সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। গ্যাসের প্রধান সরবরাহকারী কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (KGDCL) জানিয়েছে যে, চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক সেচ প্রকল্পের খনন কাজের সময় একটি প্রধান গ্যাস পাইপ অনিচ্ছাকৃতভাবে কাটা পড়ে।
KGDCL কর্তৃপক্ষের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত লাইনটি এনায়েত বাজারের কাছাকাছি অবস্থিত এবং কাজের সময় সঠিক চিহ্ন না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে তৎক্ষণাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয় এবং লিকেজ মেরামতের জন্য জরুরি টিম পাঠানো হয়।
গ্যাস বন্ধের ফলে ওই এলাকায় বসবাসকারী শত শত পরিবার দৈনন্দিন জীবনে বড় অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে। গ্যাস না থাকায় রাঁধুনির কাজ থেমে যায়, ফলে সকালের নাস্তা ও মধ্যাহ্নভোজ প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ছোট শিশুসহ পরিবারগুলো রেস্টুরেন্টের খাবার ব্যবহার করতে পারছে না, যা পুষ্টিগত চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে তুলছে।
একজন বাসিন্দা উল্লেখ করেছেন, “গ্যাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রান্না করা সম্ভব নয়, তাই বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে, যা পরিবারের বাজেটকে চাপিয়ে দিচ্ছে।” আরেকজন বাসিন্দা বলছেন, “ইন্ডাকশন কুকার না থাকায় গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ে, এখন পুরো পরিবারকে রেস্টুরেন্টের খাবারেই নির্ভর করতে হচ্ছে।” এই ধরনের মন্তব্যগুলো গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সামাজিক ও আর্থিক প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, গ্যাসের অভাবে স্থানীয় রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও ছোটখাটো খাবার বিক্রেতাদের বিক্রয় হ্রাস পেয়েছে। গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে পারবে না, ফলে কর্মচারী বেতন ও সরবরাহ চেইনের ব্যয় বাড়তে পারে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সেচ প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ইঞ্জিনিয়ারিং) ইঞ্জিনিয়ার বিষ্ণু কুমার সরকার জানান, “প্রকল্পের কাজ চলমান, যদি কোনো গ্যাস লাইন অনিচ্ছাকৃতভাবে কাটা পড়ে, আমরা তা দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করব।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা রোধে কাজের আগে আরও সুনির্দিষ্ট মানচিত্র ও সমন্বয় করা হবে।
KGDCL-র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিস্ট্রিবিউশন‑নর্থ ডিভিশন) ইঞ্জিনিয়ার রফিক খান জানান, “গুরুত্বপূর্ণ লাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হয়। আমাদের টেকনিক্যাল টিম ইতিমধ্যে 현장-এ কাজ করে লিকেজ মেরামত করছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সরবরাহ পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।” তবে, আজ দুপুর ২:৩০ টার সময় পর্যন্ত গ্যাস পুনরায় চালু হয়নি।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্যাস সরবরাহের এই অস্থায়ী বন্ধস্থানীয় বাজারে স্বল্পমেয়াদী মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করতে পারে। গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা গুলো অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়বে, যা ভোক্তা ব্যয়ের কাঠামোকে প্রভাবিত করবে। এছাড়া, গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ বা ইলেকট্রিক কুকারের ব্যবহার বাড়তে পারে, যা বিদ্যুৎ চাহিদা ও লোড শেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়াবে।
দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের অবকাঠামো সংঘাত এড়াতে শহরের পরিকল্পনা ও অবকাঠামো সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। গ্যাস লাইন, পানি ও সেচ নেটওয়ার্কের মানচিত্র আপডেট করে কাজের আগে যথাযথ অনুমোদন ও সতর্কতা নেওয়া উচিত। এছাড়া, জরুরি মেরামত টিমের প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা বাড়িয়ে গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, চট্টগ্রাম ওয়াসা সেচ প্রকল্পের খনন কাজের সময় গ্যাস লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়েছে, যা বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসার দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত মেরামত কাজ চালিয়ে গ্যাস পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা করছে, তবে পুনরুদ্ধারের সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত। ভবিষ্যতে অবকাঠামো সংযোগের সমন্বয় বাড়িয়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা জরুরি।



