প্রাক্তন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিমের গৃহস্থালি সমস্যার ওপর নতুন দৃষ্টিকোণ প্রকাশ পেয়েছে। তার স্ত্রী সানিয়া আশফাক সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্টে স্বামীকে পরকীয়া, অবহেলা এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। এছাড়া তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়গুলো প্রকাশ করলে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
দম্পতি ২০১৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তিনজন সন্তান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে গেছে এবং বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিচ্ছেদের ঘোষণার পরপরই গুজবের সীমা অতিক্রম করে এই অভিযোগগুলো জনসমক্ষে উঠে এসেছে।
সানিয়া ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগপূর্ণ পোস্টে উল্লেখ করেন, তার পারিবারিক পরিবেশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সন্তানরা বাবার স্নেহ ও উপস্থিতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, পাঁচ মাসের শিশুটিকেও এখনো ইমাদ ওয়াসিমের কোলে দেখেননি। এই তথ্যগুলো তার পোস্টে প্রকাশের মাধ্যমে পরিবারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার প্রকাশ ঘটেছে।
সানিয়া বলেন, তিনি একাধিকবার পরিবারের সুরক্ষার জন্য চেষ্টা করেছেন, তবে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি যুক্তি দেন, এই নতুন সম্পর্কের ফলে মানসিক চাপ বাড়ে এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। দীর্ঘদিন নীরব থাকা তার কারণ ছিল পারিবারিক সম্মান রক্ষা করা।
এখন তিনি নীরবতা ভাঙতে চেয়েছেন এবং দাবি করেন, তার কাছে নথিভিত্তিক প্রমাণ রয়েছে যা আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। সানিয়া জানান, এই প্রমাণগুলো প্রকাশের চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশের ইচ্ছা প্রকাশ করে, স্বামীকে দায়িত্বশীলভাবে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইমাদ ওয়াসিমের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি মিডিয়ার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে চান না।
বিচ্ছেদ এবং গৃহস্থালি বিরোধের ফলে উভয় পক্ষই আইনি পরামর্শ গ্রহণের দিকে ঝুঁকেছে। সানিয়া আশফাকের দাবি অনুযায়ী, আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে এবং হুমকি বা বাধা দেওয়ার কোনো প্রচেষ্টা থাকলে তা আইনি পথে মোকাবেলা করা হবে। ইমাদও একইভাবে তার আইনজীবীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
এই ঘটনাটি ক্রিকেটের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা তুলে ধরেছে এবং উভয় পক্ষের জন্য আইনি প্রক্রিয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা স্পষ্ট করেছে। ভবিষ্যতে আদালতে কী রকম সিদ্ধান্ত আসবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে।



