মেলবোর্নের ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সোমবারের ঐচ্ছিক অনুশীলনে অস্ট্রেলিয়ার দল প্রস্তুত, তবে উসমান খাওয়াজা উপস্থিত ছিলেন না। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের মতে সিডনি টেস্টে তিনি নিশ্চিতভাবে খেলবেন, তবে পরের সিরিজের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্যালেন্ডারে এই শেজের পর দীর্ঘ বিরতি রয়েছে। পরের টেস্ট সিরিজটি আগস্টে ঘরে ঘরে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রতিপক্ষ হবে বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে ৩৯ বছর বয়সী খাওয়াজার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
খাওয়াজা এই শেজে অস্ট্রেলিয়ার মূল ওপেনার হিসেবে সূচনা করেন, যদিও এই বছর তার ফর্ম তেমন উজ্জ্বল নয়। তবে বিকল্পের অভাবে তাকে ওপেনার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। প্রথম টেস্টে মাঠে পিঠের সমস্যার কারণে তিনি ফিল্ডিং ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং প্রথম ইনিংসে ওপেন করতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগও পাননি।
পিঠের সমস্যার পর তিনি পরবর্তী টেস্ট থেকে বাদ পড়েন। তার জায়গায় ট্র্যাভিস হেড ওপেনার হয়ে দলের স্কোর বাড়াতে সাহায্য করেন। একই সিরিজে অভিষিক্ত জেইক ওয়েদেরল্ডও ওপেনিংয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন।
চোট থেকে সেরে তৃতীয় টেস্টের স্কোয়াডে খাওয়াজা ফিরে আসেন, তবে শেষ পর্যন্ত একাদশে স্থান পাননি। এই সময়ে তার ক্যারিয়ার শেষ হবে এমন ধারণা কিছুটা প্রচলিত হয়ে যায়।
অ্যাডিলেডে টেস্ট শুরুর সকালে স্টিভেন স্মিথের অসুস্থতার ফলে তিনি হঠাৎ একাদশে অন্তর্ভুক্ত হন। খাওয়াজা চার নম্বরে নেমে ৮২ রান সংগ্রহ করেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০ রান যোগ করেন। এই পারফরম্যান্স তাকে আবার দলে ফিরে আসার সুযোগ দেয়।
বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়া জশ ইংলিশকে বাদ দিয়ে খাওয়াজাকে মিডল অর্ডারে রাখে। তবে তিনি এই ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। তার স্কোরের বিশদ তথ্য মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
কোচ ম্যাকডোনাল্ড স্পষ্ট করে বলেন, খাওয়াজার অবসর নিয়ে কোনো আলোচনা তাদের মধ্যে হয়নি। তিনি যোগ করেন, “দুই-তিন দিনের ছুটিতে তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, এবং আমরা নিয়মিত খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আলোচনা করি।”
কোচ আরও উল্লেখ করেন, “খাওয়াজা সিডনিতে ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানবে এমন কোনো ইঙ্গিত আমার দিক থেকে নেই।” তবে তিনি স্বীকার করেন, ভবিষ্যতে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, বাংলাদেশকে ঘরে ঘরে স্বাগত জানাতে আগস্টে প্রথম টেস্ট হবে। কোচের মন্তব্যের ভিত্তিতে এখনো খাওয়াজা দলের অংশ হবেন কিনা স্পষ্ট নয়, তবে তিনি দলের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
সারসংক্ষেপে, খাওয়াজা শেজের সময় পিঠের সমস্যার কারণে কিছু ম্যাচ মিস করেন, তবে অ্যাডিলেডে গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফিরে আসেন। তার অবসর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা না থাকলেও, অস্ট্রেলিয়ার কোচ ভবিষ্যতে বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করতে ইচ্ছুক। এই অনিশ্চয়তা বাংলাদেশ সিরিজের আগে স্পষ্ট হবে।



