ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাডো শহরে অবস্থিত ‘ওয়ের্ধা দামাই’ বৃদ্ধাশ্রমে গত রোববার রাত ৮:৩১ টায় অগ্নিকাণ্ড ঘটায় অন্তত ষোলো প্রবীণের প্রাণ ত্যাগ হয় এবং তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় দহনের খবর পাওয়া মাত্রই অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকল কর্মীরা আগুনের তীব্রতা এবং কাঠামোর ধ্বংসাবশেষের কারণে দ্রুত কাজ করতে পারেনি, ফলে বেশিরভাগ প্রবীণকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকৃত বয়স্কদের মধ্যে বারোজনকে কোনো শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি দুজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তবে তিনজন দগ্ধ রোগীকে তীব্র পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।
বৃদ্ধাশ্রমের কাঠামো পুরনো এবং অগ্নি প্রতিরোধের ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত বলে জানা যায়। সন্ধ্যাবেলায় অধিকাংশ প্রবীণ ঘরে বিশ্রাম করছিলেন, আর বয়সজনিত অক্ষমতার কারণে দ্রুত বের হওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতি দহনের দ্রুত বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচারে দেখা যায়, আগুনের শিখা ভবনের ছাদ থেকে নিচে নেমে এসে পুরো কাঠামোকে জ্বালিয়ে দিচ্ছিল। আশেপাশের বাসিন্দারা ঝুঁকি সত্ত্বেও প্রবীণদের ঘর থেকে বের করে আনতে চেষ্টা করছিলেন, তবে দহনের তীব্রতা তাদের কাজকে কঠিন করে তুলেছিল।
আহত তিনজন প্রবীণকে বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় শ্বাসযন্ত্র ও ত্বকে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে, ফলে তাদের পুনরুদ্ধার সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার ১৭,০০০ টিরও বেশি দ্বীপে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনা রয়েছে। দেশের রাজধানী জাকার্তায়ও সম্প্রতি একটি সাততলা অফিস ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় অন্তত বাইশজনের মৃত্যু হয়, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারো উন্মোচিত করেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। দহনের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে অস্বাভাবিকতা দেখা গিয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুঃখজনক ঘটনা রোধে অগ্নি নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোর করার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে জরুরি অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ প্রদান করতে বলা হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অগ্নি নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তদন্তের ফলাফলে যদি কোনো অবহেলা বা নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন প্রকাশ পায়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা সম্ভব।
এই দুঃখজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ইন্দোনেশিয়ার জননিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং বৃদ্ধাশ্রমসহ সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে অগ্নি প্রতিরোধের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি। ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি রোধে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং তদারকি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।



