সিরিয়ার সরকার লাতাকিয়া ও তর্তুস শহরে সামরিক ইউনিট পাঠিয়েছে, যেখানে গত রবিবারের প্রতিবাদে তিনজনের মৃত্যু এবং ষাটজনের আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পুনঃস্থাপনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নতুন সরকার, যা দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনরায় প্রবেশের চেষ্টা করছে, এই ঘটনাকে তার শাসনের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ট্যাঙ্ক ও বর্মযুক্ত গাড়ি সহ সেনাবাহিনীর দল শহরের কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের পেছনে ‘অবৈধ গোষ্ঠী’ দ্বারা নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ ঘটেছে, যা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। সরকারি সংস্থা সানা উল্লেখ করেছে, লাতাকিয়ায় সশস্ত্র হামলা ‘প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অবশিষ্ট গোষ্ঠী’ দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।
সানা আরও জানিয়েছে, আঘাতপ্রাপ্তদের মধ্যে নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মী উভয়ই অন্তর্ভুক্ত, যাদের আঘাতের কারণ ছিল ছুরি, পাথর ও গুলির ব্যবহার। প্রতিবাদকারীরা যখন সরকার সমর্থক demonstrators-এর সঙ্গে মুখোমুখি হয়, তখন মুখোশধারী গুলিবিদ্ধরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করে।
অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। লাতাকিয়ার আজহারি রাউন্ডআবাউটে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ ঘটেছে, এবং তর্তুসের বানিয়াসে আল-আনাজা পুলিশ স্টেশনে অজানা আক্রমণকারীরা হাতে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে দুইজন নিরাপত্তা কর্মীকে আহত করেছে।
এই সহিংসতা তৎকালীন সময়ে আলাওয়িত সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষকে কেন্দ্রীয় ও উপকূলীয় অঞ্চলে রাস্তায় নিয়ে আসে, যেখানে তারা সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। আলাওয়িত ধর্মীয় নেতা গাজাল গাজাল, যিনি দেশের বাইরে বসবাস করেন, তার আহ্বান ছিল আলাওয়িত সম্প্রদায়কে বিশ্বকে দেখাতে যে তারা অপমান বা বঞ্চনা সহ্য করবে না।
গাজাল গাজালের এই আহ্বান হোমসের একটি মসজিদে শুক্রবার ঘটিত বোমা হামলার পর প্রকাশ পায়, যেখানে বহু মানুষ প্রাণ হারায়। এই হামলা এবং পরবর্তী প্রতিবাদগুলো দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি এবং সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমঝোতা ও জাতিগত সংহতির জন্য উপকারী নাও হতে পারে।
অধিকন্তু, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে। সরকারি দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পদক্ষেপগুলো দেশের পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পথে অপরিহার্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অবশেষে, লাতাকিয়া ও তর্তুসে সামরিক উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের পরিণতি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় আনতে পারে। সরকারি ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপের সুযোগ বাড়বে কিনা, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
এই ঘটনাগুলো সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে নিরাপত্তা, ধর্মীয় সংহতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে, যা দেশের পুনর্গঠনকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে।



