মংলা উপকূলীয় অঞ্চলে গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পরিচালিত অভিযানগুলোতে মোট ৪৯ জন ডাকাতসহ শতাধিক অপরাধী গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারগুলো কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোনের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবাউল ইসলাম কমান্ডার কর্তৃক ২৯ ডিসেম্বর বিকাল ১১:৩০ টায় কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকাশ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, উপকূলীয় নিরাপত্তা, বন্দর রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে ৩৮টি বন্দুক ও ৪৪৮ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়, যা অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দস্যুদের জিম্মিদশা থেকে ৫২ জন জেলে মুক্তি পায়, যাদের অধিকাংশই মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন। গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র অপরাধ, দস্যুতা এবং মানব পাচার সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে।
মাদকবিরোধী অভিযানে কোস্ট গার্ড ৫,৬৭৪টি ইয়াবা প্যাকেট, ১৩ কেজি গাঁজা, ১,২৫৬ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করে এবং ৫১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের মূল্য এবং পরিমাণ দেশের মাদকবিরোধী নীতি অনুযায়ী যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় পাঠানো হবে।
বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ অভিযানেও উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জিত হয়। ৮২৪ কেজি হরিণের মাংস, ৬০০টি ফাঁদ এবং ২৯ জন চোরা শিকারের গ্রেফতার করা হয়। জব্দকৃত হরিণের মাংস ও ফাঁদগুলো পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার হস্তে পৌঁছে অবৈধ শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৎস্য সংরক্ষণ কার্যক্রমে ১.২ কোটি মিটার অবৈধ জাল, ১২০ কোটি টাকার মূল্যের রেণু পোনা এবং ১৪ হাজার কেজি জেলি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ করা হয়। এই জাল ও পণ্যগুলো মৎস্য অধিদপ্তরের নজরে তুলে ধরা হবে, যাতে অবৈধ শিকারের ওপর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
সামাজিক সেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড ২,০০০ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে এবং ৫০০ জনকে শীতের জন্য উষ্ণ পোশাক সরবরাহ করে। এই উদ্যোগগুলো উপকূলীয় জনগণের স্বাস্থ্য ও মৌলিক চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড উপকূলীয় এলাকায় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং নির্বাচনী প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিচালনা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা কর্মীকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফরের সময় নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত টহল চালু করা হয়েছে। সুন্দরবনে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটকবাহী নৌযানে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।
কোস্ট গার্ড নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বন বিভাগ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা অবৈধ কার্যকলাপের বিস্তৃতি রোধে এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্যাপ্টেন মেজবাউল ইসলাম ভবিষ্যতেও উপকূলীয় নিরাপত্তা, বন্দর রক্ষা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রেফতারকৃত সকল সন্দেহভাজনকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী তদন্ত চালিয়ে যাবে।



