২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে দেশের রাজনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি সেক্রেটারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী প্রার্থনা পত্র দাখিলের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দেশের বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে নতুন উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি দেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সীমান্ত সমস্যার সমাধানে কৌশলগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চলমান সীমান্ত বিরোধে কূটনৈতিক সংলাপ ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সমঝোতা করা উচিত। এই নীতি পরিবর্তনকে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জড়িত কর্মকর্তা আজ আদালতে সাক্ষ্য দেবেন। মামলাটি দেশের নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি জোটের দীর্ঘদিনের সহযোগী এলডিপি, শেষমেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটে যোগদান করে। এই জোটবদ্ধতা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন সমন্বয় সৃষ্টি করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। জোটের সদস্যরা একসঙ্গে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের জন্য সমন্বয় সভা চালু করেছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রথমবারের মতো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই পদক্ষেপটি দলের অভ্যন্তরীণ সংগঠন ও নেতৃত্বের পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে। পার্সনের অফিসে উপস্থিতি দলের কার্যক্রমে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল নির্বাচনী সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে। সমঝোতা দলগুলোর মধ্যে ভোট ভাগাভাগি, প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত। এই চুক্তি আগামী নির্বাচনে ভোটের ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে।
গত ১৬ মাসে মোব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নামে বিভিন্ন অপরাধ ঘটেছে, যার মধ্যে বাড়িঘর ও শিল্পকারখানায় অগ্নিসংযোগ, হামলা ও অন্যান্য সহিংসতা অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই অপরাধগুলো রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। সরকার এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি, মজুরির স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং ব্যাংকিং খাতের অবনতি স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। নতুন প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে বিচারিক স্বায়ত্তশাসন ও আইনের শাসন বজায় রাখা অন্তর্ভুক্ত। তার শপথ গ্রহণের পর থেকে বিচারিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে।
বিপরীত দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকারী পক্ষের সীমান্ত নীতি নিয়ে কিছু বিশ্লেষক ও প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধিরা সমালোচনা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক সংলাপের পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা প্রয়োজন। এই মতবিরোধ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিএনপি সেক্রেটারির কর্মসংস্থান অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোও তাদের নীতি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। তারা বলছে, দীর্ঘমেয়াদী শিল্প উন্নয়ন ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ ছাড়া স্বল্পমেয়াদী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে টেকসই ফলাফল অর্জন কঠিন। এই দ্বিমত নির্বাচনী বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এইসব রাজনৈতিক উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা গঠন অব্যাহত রয়েছে। জোটবদ্ধতা, সীমান্ত নীতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি সবই ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল চাবিকাঠি হবে।



