সীমান্তে গোপনে প্রবেশ করা দুই-চারটি অস্ত্রের তথ্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর উপস্থিতিতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই অস্ত্রগুলো ধরা পড়ছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সময়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ গার্ড (বিজিবি) সমন্বিত পরিকল্পনা চালু করেছে।
বিজিবি দিবসের উপলক্ষে ঢাকার পিলখানায় বাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের পর উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্তে প্রবেশ করা অস্ত্রগুলো কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না; বরং একাধিকবার ধরা পড়েছে। দৈনন্দিন রিপোর্টে দেখা যায়, একদিনে পাঁচটি বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র আটক হয়েছে।
নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, বর্তমান নির্বাচনে কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী সবসময়ই বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে, তবে সকলের সহযোগিতায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে। এ ধরনের নির্বাচন সরকারের ইচ্ছা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উভয়ই নিশ্চিত করে।
বিজিবি নির্বাচনের জন্য ৩৫,০০০ সদস্যকে নিয়োজিত করার পরিকল্পনা করেছে। এসব কর্মী ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভোটারদের রক্ষা এবং সম্ভাব্য হিংসাত্মক কার্যকলাপ রোধে কাজ করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে উপদেষ্টা জানান, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হয়।
শরীফ ওসমান হাদির প্রধান সন্দেহভাজনের ভারতে পালিয়ে যাওয়া এবং সহায়তার অভিযোগে দুজনের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তথ্যও আলোচনার বিষয় হয়েছে। ঢাকার পুলিশ রোববার এই তথ্য প্রকাশ করলেও, মেঘালয় পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ডিবি (ডিফেন্স ব্যুরো) রাতে একটি বিবৃতি জারি করেছে, যেখানে গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তি ভিত্তিক দুইজনের সীমান্ত অতিক্রমের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
মেঘালয় পুলিশও একই সময়ে দুইজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে, যা সীমান্ত পারাপারের সন্দেহকে আরও স্পষ্ট করে। উপদেষ্টা এ বিষয়ে আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া গেছে এবং তা তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
কেরাণীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ ঘটার পর জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, দায়িত্বশীল ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক, তবে তার সহযোগী ধরা পড়েছে। তিনি যোগ করেন, সংশ্লিষ্ট অপরাধীর গ্রেফতার প্রচেষ্টা চলমান।
এইসব নিরাপত্তা বিষয়ক আপডেটের পাশাপাশি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনকে উৎসবমুখর করার জন্য বিজিবি-কে প্রস্তুতিতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকল সংস্থার সমন্বিত কাজ প্রয়োজন।
সীমান্তে অস্ত্র পাচার ধরা, গ্রেপ্তার ও বিস্ফোরণ সংক্রান্ত ঘটনাগুলো নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৎপরতা দেখিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।
ভবিষ্যতে, নির্বাচনের পর ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সীমান্ত পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে চলবে এবং গোপনীয়ভাবে প্রবেশ করা অস্ত্রের ধরা-ফাঁদ বাড়াবে বলে আশা করা যায়। এ ধরণের পদক্ষেপগুলো দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



