দুবাইতে অনুষ্ঠিত গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডসে বছরের সেরা পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ফুটবলের বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা খেলোয়াড়, কোচ এবং ক্লাবের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত নামগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইভেন্টের প্রধান আকর্ষণ ছিল মিডল ইস্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার, যা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো গ্রহণ করেন। এছাড়া প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের উসমান দেম্বেলে পুরুষ খেলোয়াড়ের শীর্ষে বসেন।
রোনালদো গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডসে মিডল ইস্ট সেরা খেলোয়াড়ের উপাধি অর্জন করেন। তিনি পুরস্কার গ্রহণের পর ৯৫৬ গোলের মালিকানা উল্লেখ করে এক হাজার গোলের মাইলফলকে পৌঁছানোর দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন। রোনালদোর মতে, গোল করা, নতুন ট্রফি জেতা এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনই তার প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে আরও গোলের সংখ্যা বাড়াতে এবং দলকে নতুন সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে চান। রোনালদোর পেছনে করিম বেনজেমা ও রিয়াদ মাহরেজের নাম ছিল, যারা এই ক্যাটেগরিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
একই অনুষ্ঠানে পুরুষ খেলোয়াড়ের সেরা পুরস্কার উসমান দেম্বেলেকে দেওয়া হয়। দেম্বেলেকে পিএসজির প্রথম ইউইফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হয়। তিনি পূর্বে ব্যালন ডি’অর এবং ফিফা বছরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন, যা ২০২৫ সালকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল বছর করে তুলেছে। দেম্বেলের গত মৌসুমে ৩৫ গোলের অবদান পিএসজিকে লিগ ওয়ান, ফরাসি কাপসহ মোট ছয়টি ট্রফি জিততে সহায়তা করেছে। তার পারফরম্যান্সকে কিলিয়ান এমবাপ্পে, রাফিনহা এবং লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে শীর্ষে রাখে।
দেম্বেলের সাফল্যের পাশাপাশি বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী তরুণ লামিন ইয়ামালও দু’টি পুরস্কার জিতেছেন। তিনি সেরা ফরোয়ার্ডের উপাধি পেয়ে গর্বিত হন এবং ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে তার বলপায়ে দক্ষতা ও প্রতিভা স্বীকৃত হয়। ইয়ামালকে এই দুই পুরস্কার তার দ্রুত উত্থান এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার পারফরম্যান্সকে বিশ্লেষকরা উচ্চ প্রশংসা করেন, যদিও তিনি এখনও তার ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ে। ইয়ামালের এই অর্জন তাকে ইউরোপীয় ফুটবলের নতুন মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য বিভাগে পিএসজির লুইস এনরিকে কোচকে সেরা কোচের উপাধি দেওয়া হয়। তিনি দলকে ইউইফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ধারাবাহিকভাবে উচ্চমানের ফুটবল প্রদর্শন করেছেন। এছাড়া পিএসজি ক্লাবকে সেরা ক্লাবের মর্যাদা প্রদান করা হয়, যা তাদের সামগ্রিক শক্তি ও সাফল্যের প্রতিফলন। দেজিরে দুয়ে, পিএসজির তরুণ খেলোয়াড়, সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন। তার পারফরম্যান্সকে ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে গড়ে তুলতে আশা করা হচ্ছে।
রোনালদোর এক হাজার গোলের লক্ষ্য অর্জনের পথে তিনি ইতিমধ্যে ৯৫৬ গোলের মাইলফলকে পৌঁছেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি এই মাইলফলককে নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে আরও গোলের সংখ্যা বাড়াতে চান। রোনালদোর লক্ষ্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, বরং তার দল আল নাসরের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও সাফল্য অর্জন করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, ট্রফি জেতা এবং দলকে নতুন শিরোপা এনে দেওয়া তার অগ্রাধিকার। রোনালদোর এই দৃঢ় সংকল্পকে ফুটবল জগতে নতুন উদ্যমের সঞ্চার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেম্বেলের ৩৫ গোলের অবদান পিএসজিকে লিগ ওয়ান এবং ফরাসি কাপসহ ছয়টি ট্রফি জিততে সহায়তা করেছে, যা তার বহুমুখী দক্ষতা ও ধারাবাহিকতা প্রকাশ করে। তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে, রাফিনহা এবং লামিন ইয়ামালের তুলনায় এই ক্যাটেগরিতে শীর্ষে অবস্থান করেন। দেম্বেলের এই সাফল্য পিএসজির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। তার পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। দেম্বেলের এই অর্জন তাকে ইউরোপের শীর্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে স্থায়ী স্থান দেবে।
গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডসের এই ফলাফল ফুটবলের বিভিন্ন স্তরে প্রতিভা ও পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি প্রদান করেছে। রোনালদোর মিডল ইস্ট সেরা খেলোয়াড়ের উপাধি, দেম্বেলের পুরুষ খেলোয়াড়ের শীর্ষস্থান এবং ইয়ামালের সেরা ফরোয়ার্ডের পুরস্কার এই ইভেন্টের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরেছে। এই পুরস্কারগুলো খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী বছরেও গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডস একইভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সেরা পারফরম্যান্সকে সম্মানিত করবে। সকল বিজয়ীর জন্য এই স্বীকৃতি নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা এবং ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি বহন করে।



