যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের বাণিজ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, যেখানে সেবা-বাণিজ্যে ২৯৩ বিলিয়ন ডলার (২৯,৩০০ কোটি) উদ্বৃত্ত রেকর্ড করা হয়েছে। এই তথ্য ট্রাম্পের শুল্ক নীতি নিয়ে প্রকাশিত দাবির সঙ্গে সরাসরি বিরোধ সৃষ্টি করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে বারবার সতর্কতা জানিয়েছে, তবে সেই সতর্কতা মূলত পণ্য-আদানপ্রদানের ঘাটতির ওপর ভিত্তি করে। পণ্যের রপ্তানি ও আমদানি পার্থক্যকে ঘাটতি হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, সেবা-বাণিজ্যের বড় উদ্বৃত্তকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
বাণিজ্য ঘাটতি সত্যিই বিদ্যমান, তবে তা কেবল পণ্য ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেবা-বাণিজ্য ২০২৪ সালে পূর্বের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৯৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ২৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। এই তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সূত্রে প্রকাশিত।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধাপগুলো সাধারণত কৃষি, শিল্প এবং শেষে সেবা ও প্রযুক্তি খাতে অগ্রসর হয়। যুক্তরাষ্ট্র এই চক্রের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে, যেখানে অধিকাংশ প্রযুক্তি ও সেবা বিশ্বব্যাপী তারই উৎপাদন। চীনও একই পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে, আর কিছু অর্থনীতিবিদ যুক্তি দেন যে ভারত ইতিমধ্যে সেবা-প্রধান অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
সেবা ও প্রযুক্তি খাতে আধিপত্য অর্জন করার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি দিয়ে অন্য দেশকে পিছিয়ে দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানোর লক্ষ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় শিল্পমুখী করা হয়, তবে বর্তমান গ্লোবাল সেবা বাজারে তা কার্যকর হবে না।
ট্রাম্পের অন্য একটি দাবি ছিল, কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের থেকে অযৌক্তিক সুবিধা নিচ্ছে। তবে সেবা-বাণিজ্যের বিশাল উদ্বৃত্ত দেখায় যে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যে সুবিধা ভোগ করছে।
১৯৯৫ সালে জাপানের মাথাপিছু জিডিপি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেশি ছিল। তবে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু জিডিপি জাপানের তুলনায় ১৪৫ শতাংশ বেশি হয়ে উঠেছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থানের উল্টো পরিবর্তন নির্দেশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দরিদ্র রাজ্য মিসিসিপির মাথাপিছু জিডিপি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জাপানের তুলনায় বেশি। এই তথ্য দেখায় যে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থান তীব্রভাবে দুর্বল নয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং তার পেছনের বাণিজ্য ঘাটতি যুক্তি পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে শুল্ক নীতি কীভাবে গঠন হবে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সেবা ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে বিবেচনা করে নির্ধারিত হবে।



