২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে, বাংলাদেশে ফিরে আসা শিল্পী ও লেখক তারেক রহমানের সঙ্গে একটি বিড়াল, জেবু, পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়। ছোট্ট একটি কিটন হিসেবে প্রথমবার ঘরে প্রবেশের পর, জেবু দ্রুতই পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত হয়। তার আগমনের পরপরই বাবা-মা, সন্তান এবং আত্মীয়দের মধ্যে এই প্রাণীর প্রতি আগ্রহ ও কৌতূহল বেড়ে যায়, যা সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
প্রথমে জেবুকে ছোট্ট একটি কিটন হিসেবে স্বাগত জানানো হয়, তবে তার স্বভাব ও আচরণ দ্রুতই পরিবারের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাবা যখন কাজের মিটিং শেষ করতেন, জেবু তার কোলে বসে শান্তি পেত। মা বাগানে হাঁটতে গেলে, জেবু তার চারপাশে লাফিয়ে ঘুরে বেড়াত, যেন তার সঙ্গীতা চায়। এমন মুহূর্তগুলোতে জেবু পরিবারের সবার মনের অবস্থা বুঝে, নরম পা ও কোমল স্পর্শে সান্ত্বনা দিত।
জেবুর আচরণে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। অন্য বিড়ালের মতো মিউ মিউ শব্দ না করে, সে কখনোই গলা না দিয়ে, বরং পাখির মতো হালকা সুরে ডাক দেয়। কখনো কখনো আনন্দ বা বিস্ময়ের মুহূর্তে এই সুর শোনায়, যা তার মালিকদের হাসি এনে দেয়। তবে যখন কেউ অনুমতি ছাড়া তার কোলে বসে, তখন হালকা বিরক্তিতে গোঁ গোঁ করে, এবং অন্য বিড়ালকে পছন্দ না করলে জোরে চিৎকার করে। এই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো জেবুকে অন্য পোষা প্রাণীর থেকে আলাদা করে তুলেছে।
জেবুর সঙ্গে বসবাসের অভিজ্ঞতা পরিবারকে ধৈর্য ও সহানুভূতির শিক্ষা দিয়েছে। ছোট প্রাণীর যত্ন নেওয়া মানে কেবল খাবার ও ঘর দেওয়া নয়, বরং তার মানসিক চাহিদা বুঝে সাড়া দেওয়া। জেবু পরিবারের সদস্যদেরকে দেখিয়েছে যে, প্রাণীর প্রতি মমতা ও ভালোবাসা কোনো প্রজাতির সীমানা পার করে না। এই শিক্ষা তাদেরকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
সম্প্রতি জেবুকে নতুন পরিবেশে স্থানান্তরিত করা হয়েছে; পরিবারটি তাকে মহাদেশ পেরিয়ে একটি নতুন দেশে পাঠিয়েছে। নতুন পরিবেশে তার মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনকে পুরো পরিবারই পর্যবেক্ষণ করছে। জেবুর জন্য এই পরিবর্তনটি বড় চ্যালেঞ্জ, তবে পরিবারের সমর্থন ও যত্নে সে ধীরে ধীরে নতুন জীবনে অভ্যস্ত হচ্ছে।
সামাজিক মিডিয়ায় জেবুর প্রতি বাড়তে থাকা কৌতূহল লেখকের জন্য একধরনের আশ্চর্য ও আনন্দের কারণ। মানুষ যখন একটি পোষা প্রাণীর ছোটখাটো অভ্যাসে মনোযোগ দেয়, তখন তা পরিবারের অভ্যন্তরীণ বন্ধনকে দৃঢ় করে। জেবু সম্পর্কে জানার মাধ্যমে পাঠকরা পোষা প্রাণীর সঙ্গে সঠিক সম্পর্ক গড়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।
পোষা প্রাণী পালন করা সহজ কাজ নয়; এটি একটি বড় দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। জেবুর গল্প থেকে স্পষ্ট হয় যে, প্রাণীর সঙ্গে সঠিক যোগাযোগ, তার স্বভাবের প্রতি সম্মান এবং প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারটি জেবুর মাধ্যমে শিখেছে যে, যত্নশীল মনোভাবই সত্যিকারের সঙ্গী তৈরি করে।
যারা পোষা প্রাণীকে ঘরে আনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য জেবুর অভিজ্ঞতা একটি ব্যবহারিক উদাহরণ। প্রাণীর স্বভাব বুঝে, তার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবেশ তৈরি করা, এবং তার সঙ্গে মানসিক সংযোগ গড়ে তোলা দীর্ঘমেয়াদে সুখী সঙ্গীতা নিশ্চিত করে। জেবুর গল্প এই দিক থেকে একটি প্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।



