ইন্দোনেশিয়ার উত্তরের সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী মানাদোতে রাত ৮:৩১ টায় একটি নার্সিং হোমে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় ১৬ জনের মৃত্যু এবং তিনজনের দাহজনিত আঘাত। স্থানীয় দমকল ও উদ্ধার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ কাজ শুরু করে।
দমকলকর্মীরা জানায়, আগুনের শিখা দ্রুতই পুরো ভবনকে গ্রাস করে, ফলে অনেক বয়স্ক বাসিন্দা তাদের ঘরে শোয়া অবস্থায়ই ধ্বংসের শিকার হয়। মৃতদেহের বেশিরভাগই ঘরের ভেতরে পাওয়া যায়, যা নির্দেশ করে যে শিকারেরা সন্ধ্যাবেলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ১২ জন বাসিন্দা নিরাপদে বেরিয়ে যায় এবং কোনো শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হয়। আহত তিনজনের ক্ষেত্রে দাহজনিত ক্ষতি নিশ্চিত করা হয়েছে, তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল মেট্রো টিভি থেকে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় ধোঁয়া ও শিখা পুরো ভবনকে আচ্ছন্ন করে, আর আশেপাশের বাসিন্দারা দ্রুতই বয়স্কদের নিরাপদে বের করার জন্য সহায়তা করে।
মানাদোর দমকল ও উদ্ধার বিভাগ প্রধান জিমি রোটিনসুলু ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মৃতসংখ্যা ও আহতদের সংখ্যা নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মৃতসংখ্যা ১৬ এবং তিনজনের দাহজনিত আঘাত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি; তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুতই একটি তদন্ত দল গঠন করে, যা অগ্নি-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করবে। ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে মূল কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।
ইন্দোনেশিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে, দেশের রাজধানী জাকার্তায় সাততলা অফিস ভবনে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ২০২৩ সালে দেশের পূর্বাঞ্চলে একটি নিকেল প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় বিস্ফোরণে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে।
মানাদোর স্থানীয় সরকার এখন থেকে সকল নার্সিং হোম ও বয়স্কাশ্রমে নিরাপত্তা পরিদর্শন চালু করার নির্দেশ দিয়েছে। দমকল বিভাগ ভবনের অগ্নি-নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, জরুরি বের হওয়ার পথ এবং বৈদ্যুতিক সিস্টেমের যথাযথতা যাচাই করবে।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই মৃতদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা শোক প্রকাশ করে, স্থানীয় মসজিদে সমবেত হয়ে প্রার্থনা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা সংগঠনের উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়।
অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দমকল বিভাগ জানায়। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্যোগ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে, মৃতদের পরিবারকে সমর্থন প্রদান এবং বাকি বয়স্ক বাসিন্দাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



