মালয়েশিয়ার জাতীয় স্টেডিয়াম বুকিত জালিল-এ অনুষ্ঠিত জানা নায়গান অডিও লঞ্চে পরিচালক আটলি তীব্র আবেগের সঙ্গে থালাপতি ভিকিরের প্রতি সম্মানসূচক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি “থালাপতি থিরুভিজা” শিরোনামে আয়োজন করা হয় এবং ভিকিরের শেষ ছবির প্রস্তুতির মুহূর্তে এই সমাবেশটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বড় স্টেডিয়ামের ভেতরে ভিকিরের ভক্তদের বিশাল ভিড় জমে ছিল, যেখানে উজ্জ্বল আলো, সঙ্গীত এবং উচ্ছ্বাসের ঢেউ তীব্রভাবে গুঞ্জরিত হচ্ছিল। উপস্থিত দর্শকরা উল্লাসে মাতিয়ে তুলেছিলেন, আর ভিকিরের নামের চারপাশে গড়ে ওঠা উত্তেজনা স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছিল।
আটলি তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো স্মরণ করে ভিকিরের সহায়তা সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজের শেষ দিনে ভিকিরের কাছ থেকে ফোন এসে তিনি তার কাজের প্রশংসা করেন এবং কোনো গল্প থাকলে শেয়ার করতে বলেছিলেন। সেই সময়ে ভিকির ইতিমধ্যে পঞ্চাশের বেশি ছবি সম্পন্ন করছিলেন, যা সাধারণত বড় তারকাদের জন্য অস্বাভাবিক।
এরপর আটলি ভিকিরকে নিজের ভাই ও থালাপতি হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ভক্তদের মধ্যে তীব্র উল্লাসের স্রোত তৈরি করে। তার এই উক্তি স্টেডিয়ামের গর্জনে পরিণত হয় এবং রাতের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
আটলি জীবনের তিন প্রকারের মানুষের তুলনা করে একটি রূপক ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, জীবনে পাতা, শাখা এবং মূলের মতো মানুষ থাকে; পাতা আসে যায়, শাখা ঝড়ে ভেঙে যায়, আর মূল কখনো চলে না। ভিকিরকে তিনি নিজের জীবনের মূল হিসেবে বর্ণনা করেন, যা দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
দুটি শিল্পীর যৌথ কাজের তালিকায় থেরি (২০১৬), মেরসাল (২০১৭) এবং বিগিল (২০১৯) উল্লেখযোগ্য। এই ছবিগুলো বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে এবং ভিকিরের ভক্তদের সঙ্গে আটলির সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি মিশিয়ে সমৃদ্ধ গল্প বলার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তাদের সহযোগিতা তামিল সিনেমায় বাণিজ্যিক আকর্ষণ এবং আবেগময় বর্ণনার সমন্বয় ঘটিয়ে শিল্পের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাতের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্যটি ঘটে যখন আটলি উচ্ছ্বাসে স্টেজে দৌড়ে গিয়ে ভিকিরকে আলিঙ্গন করেন। ভিকির তৎক্ষণাৎ তাকে গরমভাবে গ্রহণ করে কাঁধে চুমু দেন, যা স্টেডিয়ামকে উচ্ছ্বাসের স্রোতে ডুবিয়ে দেয়। এই আন্তরিক মুহূর্তটি দর্শকদের মধ্যে তীব্র উল্লাসের স্রোত তৈরি করে এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ইভেন্টের ভিডিও ক্লিপগুলো সামাজিক নেটওয়ার্কে দ্রুত ভাইরাল হয়ে ওঠে, যেখানে ভক্তরা আটলির আবেগপূর্ণ ভাষণ এবং ভিকিরের স্নেহপূর্ণ প্রতিক্রিয়াকে প্রশংসা করে। অনলাইন মন্তব্যে এই সমাবেশকে ভিকিরের শেষ ছবির জন্য একটি স্মরণীয় প্রস্তাবনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আটলি এবং ভিকিরের বন্ধন আবারও দৃঢ় হয়েছে, এবং ভিকিরের শেষ ছবির প্রত্যাশা আরও বাড়ে। ভক্তরা এখন নতুন ছবির রিলিজের অপেক্ষায়, আর এই অডিও লঞ্চের স্মৃতি তাদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকবে।



