২০২৫ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা করা হলো। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলগুলো মাঝারি পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তবে মাঠের বাইরের নানা বিতর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই প্রতিবেদনে পুরুষ ও নারী দলের ফলাফল, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত সাফল্যগুলোকে একত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
পুরুষ দলের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে সিরিজের ফলাফল মিশ্রণ ছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজে বাংলাদেশ জয়লাভ করে, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজে পরাজয় স্বীকার করে। উভয় সিরিজই আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের অংশ ছিল এবং দলের সামগ্রিক রেকর্ডে সামান্য উন্নতি বা হ্রাস ঘটায়নি। মাঠে কোনো বিশাল সাফল্য না থাকলেও দলটি ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে।
নারী দলের পারফরম্যান্সে কিছু উজ্জ্বল দিক দেখা গেছে। দলটি ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে সফলভাবে অগ্রসর হয়ে মূল টুর্নামেন্টে স্থান পায়। তবে মূল পর্যায়ে পাকিস্তানকে বাদে অন্য কোনো দলকে পরাজিত করতে পারে না, ফলে টুর্নামেন্টে তাদের অগ্রগতি সীমিত থাকে। বিশ্বকাপের পরিণতিতে দলটি কিছু বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
বছরের শেষের দিকে নারী দলের পেসার জাহানারা আলমের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে আসে। এই অভিযোগের ফলে দল ও ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়, যা মিডিয়ার দৃষ্টিতে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। একই সময়ে পুরুষ দলেরও কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যার মুখোমুখি হয়। মার্চে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, যা জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলে।
বিবিসি (BCB) নির্বাচনের প্রক্রিয়াতেও বিশাল ঝড় উঠেছে। নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে, ফলে তামিম ইকবালসহ কিছু প্রাক্তন খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। নির্বাচনের ফলস্বরূপ সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম নতুন সভাপতি হিসেবে শপথ নেন, আর পূর্বের সভাপতি ফারুক আহমেদকে বিতর্কিতভাবে পদত্যাগের পর মে মাসের শেষে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ফারুক আহমেদই অক্টোবরের নির্বাচনে পরিচালক ও সহ-সভাপতি পদে ফিরে আসেন।
বিপিএল (BPL) সম্পর্কিত তদন্তে প্রকাশিত সুপারিশের ভিত্তিতে কয়েকজন সন্দেহভাজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে টুর্নামেন্টের সংগঠন সম্পূর্ণভাবে মসৃণ নয়; শেষ মুহূর্তে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর ফলে বিসিবি ঐ দলের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই পরিবর্তন টুর্নামেন্টের শেডিউল ও দল গঠনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
বছরের মাঝামাঝি সময়ে একটি কোচ ও একটি ফিজিওথেরাপিস্ট মাঠে মারা যান, যা ক্রিকেট সম্প্রদায়কে শোকাহত করে। এই দুজনের মৃত্যু দলীয় কর্মপরিবেশে গভীর প্রভাব ফেলে এবং নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত আলোচনার সূচনা করে।
টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হিসেবে তাইজুল ইসলাম নতুন মাইলফলক অর্জন করেন। নভেম্বর মাসে মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যান্ডি বলবার্নিকে আউট করে তিনি চারটি উইকেট নেন, ফলে শাকিব আল হাসানের ২৪৬ উইকেটের রেকর্ডকে অতিক্রম করে ২৫০ উইকেটের সীমা স্পর্শ করেন। এই সাফল্য তাকে দেশের টেস্ট ইতিহাসে অন্যতম শীর্ষ স্পিনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও তাইজুলের পারফরম্যান্স শীর্ষে উঠে আসে। এশিয়া কাপের সময় তিনি শাকিবের ১৪৯ উইকেটের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি উইকেটধারী হন। এই অর্জন তার বহুমুখী দক্ষতা ও ধারাবাহিকতা প্রকাশ করে, যা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালের বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাঠের পারফরম্যান্স মাঝারি হলেও, প্রশাসনিক পরিবর্তন, নির্বাচন‑সংকট এবং ব্যক্তিগত সাফল্যগুলো একসাথে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আসন্ন সিরিজ ও টুর্নামেন্টে এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নজরে থাকবে।



