ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকায় রেললাইন থেকে পাত সরিয়ে ফেলা হয়, ফলে ঢাকায় যাত্রা করা ‘অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনসহ দুইটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার ভোরের প্রায় পাঁচটায়, গফরগাঁও স্টেশনের এক কিলোমিটার পূর্বে, জন্মেজয় এলাকায় ঘটেছে।
স্টেশন প্রধান হানিফের মতে, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জানানো তথ্য অনুসারে, ওই এলাকায় কিছু অপরাধী ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের রেললাইন পাত সরিয়ে ফেলায় ট্রেনের গতি হঠাৎ কমে গিয়ে লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি তারাকান্দি থেকে বেরিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে ছিল।
দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ট্রেনের ইঞ্জিন ও দুটি বগি রেলপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে, যা রেলওয়ে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা (আরএনবি) পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, রেললাইন পরিষ্কার করে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে রেললাইন পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে, ফলে গফরগাঁও ও আশেপাশের যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। গত শনিবার, ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে বিএনপি দলের প্রার্থী আকতারুজ্জামান বাচ্চুর মনোনয়ন না পাওয়ার পর, তার সমর্থকরা রেললাইন অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু করে। এই প্রতিবাদে রেললাইন পাত সরিয়ে ফেলা এবং আগুন জ্বালানোর কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছেন, তারা রেললাইন বন্ধ করে সরকারকে তাদের দাবির প্রতি মনোযোগী করতে চায়। তবে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী এই ধরনের অবৈধ কাজকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার হানিফ উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত কোনো আহত বা মৃতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে রেললাইন পরিষ্কারের কাজ চলমান। রেলওয়ে কর্মীরা নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।
রেলওয়ে নিরাপত্তা (আরএনবি) পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম জানান, রেললাইন থেকে সরানো পাতের জন্য তদন্ত চালু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রেললাইন পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
অধিক তদন্তে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী রেললাইন অবরোধের সময় রেকর্ডেড ভিডিও ও গ্যাংস্টারদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে। যদি প্রমাণে দেখা যায় যে এই কাজটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীলতা, সম্পত্তি ধ্বংস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে এবং রেললাইন অবরোধের সময় রেকর্ড করা ভিডিও ও গ্যাংস্টারদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে। যদি প্রমাণে দেখা যায় যে এই কাজটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীলতা, সম্পত্তি ধ্বংস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেললাইন নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধের ঝুঁকি কমাতে, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, গফরগাঁওতে রেললাইন পাত সরিয়ে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া একটি গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন, যা রেলওয়ে সেবা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে সেবা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



