19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের মন্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কয়েক সপ্তাহে নির্ধারিত হবে

ট্রাম্পের মন্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কয়েক সপ্তাহে নির্ধারিত হবে

ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো অবকাশযাপনকেন্দ্রে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক বন্ধ দরজার বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি শান্তি আলোচনার সব দিক ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হয়, তবে দ্রুত একটি চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জন সম্ভব, অন্যথায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে।

ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন একটি কার্যকর সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের পার্লামেন্টে সরাসরি ভাষণ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যদি তা প্রতি মাসে হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করতে সহায়তা করে। এই প্রস্তাবের পেছনে তার লক্ষ্য হল শান্তি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা।

জেলেনস্কি সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক একটি বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, চুক্তির বিষয়ে এখনও ৯৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলে ট্রাম্পের মন্তব্যে কিছুটা সতর্কতা বজায় রয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোরও বড় ভূমিকা থাকবে। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা দেখা যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত শান্তি চুক্তির শর্তাবলীতে প্রভাব ফেলতে পারে।

যুদ্ধের প্রধান অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে দনবাস অঞ্চল এখনও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ থামাতে হলে পুরো দনবাস এলাকা মস্কোর কাছে হস্তান্তর করতে হবে; বর্তমানে এই অঞ্চলের বড় অংশ রাশিয়ান সেনাদের নিয়ন্ত্রণে। ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে দনবাসকে রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে, তবে জেলেনস্কি ও ইউক্রেনের সরকার এই শর্তে দ্বিমত পোষণ করছে। উভয় পক্ষই স্বীকার করেন, দনবাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি এবং এটি একটি জটিল ও কঠিন বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি এই কথোপকথনকে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন, যা পরবর্তী আলোচনার জন্য ইতিবাচক সূচনা হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন নীতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে নতুন দিকনির্দেশনা নির্দেশ করে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের এই প্রকাশনা ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। যদি শীঘ্রই চূড়ান্ত সমঝোতা গড়ে ওঠে, তবে ইউক্রেনের পুনর্গঠন, শরণার্থী সমস্যার সমাধান এবং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে, দনবাসের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে সমঝোতা না হলে সংঘাতের পুনরায় উত্তেজনা বাড়তে পারে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের মন্তব্য এবং জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে যে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসন্ন। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং রাশিয়ার মধ্যে কী ধরনের আলোচনা হবে, তা নির্ধারণ করবে এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের শেষের দিক। উভয় পক্ষই শান্তি প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে এবং মানবিক ক্ষতি কমাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তবে দনবাসের মত জটিল বিষয়গুলোতে সমঝোতা অর্জন এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments