20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য রাসায়নিক ও জৈব ওয়ারহেড তৈরির কাজ শুরু

ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য রাসায়নিক ও জৈব ওয়ারহেড তৈরির কাজ শুরু

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড (IRGC) কোরের অধীনে থাকা IRGC Aerospace Force সম্প্রতি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য রাসায়নিক ও জৈব ওয়ারহেড উৎপাদনের প্রকল্প চালু করেছে। এই উদ্যোগটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।

গোপন মিশন হিসেবে শুরু হওয়া কাজটি দেশের পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা স্থাপন করার সঙ্গে যুক্ত। এ ধরনের ব্যবস্থা পূর্বের তুলনায় অধিক দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন। বৈঠকে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে গত জুনে ইসরায়েল ও গাজা অঞ্চলে সংঘটিত যুদ্ধের পর ইরান দ্রুত তার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মেরামত করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

IRGC Aerospace Force ইতিমধ্যে ঐতিহ্যবাহী ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতার পাশাপাশি একটি পরিপূরক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই ব্যবস্থা মূলত ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হবে বলে সংস্থার নীতিনির্ধারকরা ধারণা প্রকাশ করেছেন। ইরান আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদেরকে রাসায়নিক অস্ত্রের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করলেও, বর্তমান কৌশলগত পরিবর্তন থেকে দেখা যায় যে তারা সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় অপ্রচলিত অস্ত্রের ব্যবহার বিবেচনা করছে।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্প্রতি IRGC Aerospace Force-এ অস্বাভাবিক তৎপরতা এবং সংকেত শনাক্ত করেছে। এই সংকেতগুলোতে নতুন রকেটের টেস্ট, উৎপাদন লাইনের সম্প্রসারণ এবং বেসামরিক অবকাঠামোর পুনর্গঠন অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি ইরান রাসায়নিক বা জৈব ওয়ারহেড সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়বে এবং তেহরানের ওপর আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, এই উন্নয়নকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের উপর আরেকটি রাউন্ড স্যাঙ্কশন আরোপের সম্ভাবনা বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দল ইতিমধ্যে ইরানের নতুন হুমকি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইরানের রসায়নিক ও জৈব অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নিয়মাবলীর কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক এক মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন, “ইরান যদি সত্যিই অপ্রচলিত ওয়ারহেড ব্যবহার করে, তবে তা কেবলমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে নয়, বিশ্বব্যাপী অ-প্রচলিত অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করবে।” এই মন্তব্যটি ইরানের কৌশলগত পরিবর্তনের সম্ভাব্য পরিণতি তুলে ধরেছে।

অবশেষে, ইরানের বর্তমান পদক্ষেপগুলোকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে আনার জন্য বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় করা হচ্ছে। ইরানের রসায়নিক ও জৈব ওয়ারহেড তৈরির প্রকল্পের অগ্রগতি, তার সামরিক অবকাঠামোর পুনর্গঠন এবং পূর্বাঞ্চলে নতুন উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা স্থাপনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং কূটনৈতিক মঞ্চে আলোচনার সূচনা হয়েছে। এই আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যতে ইরানের সামরিক নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments