20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প‑জেলেনস্কি বৈঠকে যুদ্ধবিরতি আলোচনার অগ্রগতি ও ভূখণ্ড বিষয়ক অমীমাংসা

ট্রাম্প‑জেলেনস্কি বৈঠকে যুদ্ধবিরতি আলোচনার অগ্রগতি ও ভূখণ্ড বিষয়ক অমীমাংসা

ফ্লোরিডার মার‑আ‑লাগোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি একত্রে বৈঠক করে, ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেছেন। দুজন নেতা দু’দিন আগে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে, যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার বেশিরভাগ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়ে, তবে ভূখণ্ড সংক্রান্ত চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও বাকি রয়েছে।

বৈঠকের পর ট্রাম্প উল্লেখ করেন, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয়ই সমাধান হয়েছে, তবে এক বা দুইটি জটিল বিষয় অবশিষ্ট আছে, যার মধ্যে প্রধানত ভূখণ্ডের ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। জেলেনস্কি একই সময়ে জানান, ২০ ধাপের শান্তি পরিকল্পনার প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়েই উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্পও নিরাপত্তা গ্যারান্টি সংক্রান্ত আলোচনার ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

উভয় নেতার মতে, আগামী সপ্তাহে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পুনরায় টেবিলে বসবে, যাতে বাকি থাকা বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা যায়। এই পুনর্মিলনটি যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে হবে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের ফলে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশেষ করে দোনেৎস্কের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং লুহানস্কের প্রায় ৯৯ শতাংশ অঞ্চল রাশিয়ার হাতে। এই পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ভূখণ্ড সংক্রান্ত প্রশ্নকে সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় করে তুলেছে।

ট্রাম্পের ইঙ্গিত রয়েছে যে, উপযুক্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকও আয়োজন করা যেতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই আলোচনাগুলি ব্যর্থ হয়, তবে যুদ্ধের সময়সীমা আরও বাড়তে পারে এবং মানবিক ক্ষতি বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

বৈঠকের পর উভয় দেশের অফিসিয়াল বিবৃতি থেকে স্পষ্ট হয়েছে, যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হল ইউক্রেনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাশিয়ার আক্রমণাত্মক নীতি পরিবর্তন করা। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের শান্তি পরিকল্পনার বাকি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা হবে, যাতে দেশের পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার কাজ ত্বরান্বিত হয়।

ট্রাম্পের মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি ও রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও সামরিক সহায়তা বজায় রাখার পাশাপাশি, রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংলাপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইউক্রেনের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।

অবশেষে, উভয় নেতার সমঝোতা ও অগ্রগতির পরেও, ভূখণ্ড সংক্রান্ত চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণতা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। পরবর্তী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত পুনরায় আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে, শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত হবে।

এই বৈঠক ও তার পরবর্তী আলোচনার ফলাফল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে ইউক্রেনের পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা গ্যারান্টি সম্পর্কে নতুন নীতি নির্ধারণে প্রভাবিত করবে। ভবিষ্যতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা ও তার শর্তাবলী, ইউক্রেনের ভূখণ্ড সংক্রান্ত চূড়ান্ত সমঝোতা, এবং রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments