২৩ বছর বয়সী পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান খাওয়াজা নাফে দুই দিন আগে বাংলাদেশে পিএল (বিপিএল) খেলতে এসে দেশের মাঠে প্রথম পদক্ষেপ নিলেন। একই সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ঘোষণায় তিনি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি‑টোয়েন্টি সিরিজে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
রঙপুর রাইডার্সের সঙ্গে প্রথম প্রশিক্ষণ সেশনে নাফে নিজেকে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করেন। তার উপস্থিতি দলের ভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, কারণ তিনি এখনো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ক্রিকেটে তুলনামূলকভাবে নতুন নাম।
সপ্তাহের শেষের দিকে পাকিস্তান নির্বাচকরা নতুন টি‑টোয়েন্টি স্কোয়াড প্রকাশ করেন। শীর্ষ স্তরের কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের ব্যাগস্ ব্যাশে ব্যস্ত থাকায় ২৩ বছর বয়সী নাফের জন্য জাতীয় দলে প্রবেশের দরজা খুলে যায়। নির্বাচনের পর তিনি প্রকাশ্যে গর্বের অনুভূতি ভাগ করে নেন, “এটি আমার জন্য গর্বের মুহূর্ত, দেশের হয়ে খেলতে পারা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, আপনারা দোয়া করুন।”
পাকিস্তানের শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে তিনটি টি‑টোয়েন্টি ম্যাচ ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। এই সিরিজের শেষে নাফে এবং অন্য ছয়জন পাকিস্তানি খেলোয়াড় বাংলাদেশে ফিরে আসবে, যেখানে তারা পিএল‑এর অংশগ্রহণ চালিয়ে যাবে।
নাফের পিএল‑এর সঙ্গে সম্পর্ক তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে তিনি প্রথমবার পিএল‑এ খেলেছিলেন, যখন পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে তার নাম অজানা ছিল। তিনটি ম্যাচে মোট ২৩ রান সংগ্রহের পর তিনি পাকিস্তানীয় ক্রিকেটের দৃশ্যপটে প্রথম পদক্ষেপ রাখেন।
এর এক বছর পর পাকিস্তানের সুপার লিগে দ্বিতীয় ম্যাচে নাফে ৬৬ বলের মধ্যে ৩১ রান করেন, তবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তেমন সফলতা পাননি। একই বছরের শেষের দিকে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স টি‑টোয়েন্টি কাপের ১০টি ম্যাচে অংশ নিয়ে দুইটি পঞ্চাশের পারফরম্যান্স দেখান, যা তার দক্ষতার প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়।
পিএল‑এর সর্বশেষ মৌসুমে নাফে চট্টগ্রাম কিংসের হয়ে অংশ নেন। পাঁচটি ম্যাচে তিনটি পঞ্চাশের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তিনি গড়ে ৪০.২০ রান, ১৪২.৫৫ স্ট্রাইক রেট এবং মোট ২০১ রান সংগ্রহ করেন। এই ধারাবাহিকতা তাকে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও বেশি সুযোগ এনে দেয়।
নাফে নিজেই বলেন, “গত বছর পিএল‑এ পারফর্ম করার পর অনেকেই আমাকে চিনতে পারল, ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে পারি।” তার কথায় স্পষ্ট যে পিএল‑এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং এখন রঙপুর রাইডার্সের হয়ে একই রকম ফলাফল অর্জনের লক্ষ্য রাখছেন।
নাফের এই উত্থান দেখায় কীভাবে পিএল উদীয়মান প্রতিভার জন্য একটি সেতু হিসেবে কাজ করে। শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে তিনি কীভাবে পারফর্ম করবেন তা সকলের নজরে থাকবে, এবং তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে এই সুযোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



