ইন্টার মিলান ১-০ স্কোরে আটালান্টাকে পরাজিত করে সিরি এ-র শীর্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে। লাউতারো মার্টিনেজের একক গোলই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে, ফলে ইন্টার এখন এ.সি. মিলানের এক পয়েন্টের পার্থক্যে লিগের শীর্ষে।
বেরগামোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মার্টিনেজের গোলই একমাত্র স্কোর হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বাম পা দিয়ে বলকে জালে পাঠিয়ে ইন্টারকে জয় নিশ্চিত করেন, যখন আটালান্টার ডিফেন্ডার বেরাট জিমসিতি নিজের পেনাল্টি এলাকায় বল হারিয়ে দেন।
দুই দিকের খেলোয়াড়দেরই সুযোগ তৈরি হয়, তবে মার্টিনেজের আগে মার্কাস থুরাম এবং চার্লস ডে কেটেলেয়ার উভয়ই অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। ইন্টারের নিকোলো বারে্ল্লা লুইস হেনরিকে মারাত্মক শটের পরেও আটালান্টার গোলকিপার মার্কো কার্নেসেচ্চি বলকে রক্ষা করেন।
মার্টিনেজের গোলের পর আটালান্টা সমান করার চেষ্টা করে, তবে লাজার সামারদজিক শেষের তিন মিনিটে নিজের পায়ে পিছলে যায়, ফলে ডে কেটেলেয়ারের সমান করার সুযোগ নষ্ট হয়।
ইন্টারের এই জয় তাদের শীর্ষে থাকা অবস্থানকে এক পয়েন্টের পার্থক্যে বজায় রাখে, যেখানে এ.সি. মিলান ভেরোনার বিরুদ্ধে ৩-০ জয় অর্জন করে। এ.সি. মিলানের ক্রিস্টোফার এনকুঙ্কু প্রথম সিরি এ গোলের পর পেনাল্টি থেকে গোল করে, এরপর পাঁচ মিনিট পর আবার স্কোর বাড়িয়ে দলকে ১৫ ম্যাচের অপ্রতিদ্বন্দ্বী রেকর্ডে রাখে।
মার্টিনেজের ব্যক্তিগত রেকর্ডও উজ্জ্বল। তিনি ধারাবাহিকভাবে চারটি লিগ ম্যাচে গোল করেছেন এবং এই মৌসুমে মোট নৌম্বর গোলের সংখ্যা নয়, যা তাকে লিগের শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় রাখে। তিনি গত ক্যালেন্ডার বছরে ১৫টি সিরি এ গোলের মালিক।
মার্টিনেজের মন্তব্যে তিনি গত মৌসুমের শেষের দিকে শারীরিক কষ্টের কথা উল্লেখ করেন, ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বের পরেও তিনি ধারাবাহিকভাবে খেলতে সক্ষম হয়েছেন এবং গ্রীষ্মের বিরতি খুবই সংক্ষিপ্ত ছিল।
আটালান্টা, রাফায়েল প্যালাডিনোর নেতৃত্বে, গত মাসে কোচ পরিবর্তনের পর থেকে ভিন্ন রূপ দেখিয়েছে। যদিও দল এখন দশম স্থানে রয়েছে, তবে ইউরোপীয় স্থান থেকে পাঁচ পয়েন্টের দূরত্বে রয়েছে।
ইন্টারের জয় এবং এ.সি. মিলানের জয় দুটোই লিগের শীর্ষে তীব্র প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলেছে, যেখানে এক পয়েন্টের পার্থক্যই শিরোপার দিক নির্ধারণ করতে পারে।
সিরি এ-র পরবর্তী রাউন্ডে ইন্টার মিলান ঘরে বসে রোমা দলের মুখোমুখি হবে, আর এ.সি. মিলান ভেরোনার বিপক্ষে তাদের জয় বজায় রাখার চেষ্টা করবে। উভয় দলই শিরোপা দৌড়ে শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্যে থাকবে।
এই ম্যাচে উভয় দিকের কোচের কৌশলগত পরিবর্তনও নজরে এসেছে। ইন্টারের কোচ আক্রমণাত্মক রক্ষণে জোর দিয়ে মার্টিনেজের সুযোগ তৈরি করেছেন, আর আটালান্টার কোচ প্যালাডিনো রক্ষণে দৃঢ়তা বজায় রাখতে চেয়েছেন, যদিও শেষের মুহূর্তে সমান করার সুযোগ হারিয়েছেন।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, ইন্টারের শটের সংখ্যা আটালান্টার তুলনায় বেশি ছিল, তবে গোলের গড়ে শটের রূপান্তর হার কম ছিল। মার্টিনেজের একক গোলই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে।
সিরি এ-র শীর্ষে ইন্টারের অবস্থান এবং এ.সি. মিলানের ধারাবাহিক জয় উভয়ই লিগের শেষ পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে, যেখানে প্রতিটি পয়েন্টই শিরোপা দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



