বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল ২০২৫ সালে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্যায়ে প্রথমবারের মতো স্থান পেয়েছে। ১২৮ নম্বর সর্বনিম্ন র্যাঙ্কে থাকা দলটি এই টুর্নামেন্টে প্রবেশের মাধ্যমে র্যাঙ্কিংয়ে ২৪ স্থান উর্ধ্বগতি অর্জন করে, যা দেশের ফুটবলের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করে।
এ পর্যন্ত পুরুষ জাতীয় দল ১৯৭৯ সালে একবার এশিয়ার শীর্ষ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিল; সেই মুহূর্তটি এখন পুরনো ফটোর মতো স্মরণীয়। তবে ২০২৫ সালে নারী দলটি অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশের ফুটবল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফেব্রুয়ারি মাসে দলটির অভ্যন্তরে তীব্র উত্তেজনা দেখা যায়। সিনিয়র খেলোয়াড় সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে কিছু খেলোয়াড় কোচ পিটার বাটারের পদত্যাগের দাবি জানায়। তারা কোচের পক্ষপাত, কথাবার্তার সুর এবং বিশ্বাসের অভাবকে মূল অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরে। এই বিরোধ প্রকাশ্যভাবে, প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে, এমনভাবে প্রকাশ পায় যেন বৃষ্টির মৌসুমের জেলা কাপের চূড়ান্ত ম্যাচের মতো তীব্রতা থাকে।
বাটার কোচের পদে থাকা অব্যাহত রাখে, এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। চুক্তি অনুযায়ী খেলোয়াড়দের বেতন ও শর্তাবলী বজায় রাখা হয়, এবং কিছু সমঝোতা করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় কিছু পরিচিত মুখ দল ছেড়ে যায়, যা দেখায় যে কোনো প্রতিবাদে কিছু খেলোয়াড়ের জন্য শেষের দিকের পরিণতি থাকতে পারে।
কোচ বাটার তার দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে তরুণ খেলোয়াড়দের উপর বিশ্বাস রাখেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জোর দেন এবং গেমের পরিকল্পনায় ‘চিন্তা করে খেলা’কে অগ্রাধিকার দেন। মে ও জুন মাসে ইন্দোনেশিয়া ও জর্ডানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলটি সমান স্কোরে ড্র করে, যা উচ্চ র্যাঙ্কের প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা প্রকাশ করে। এই ফলাফলগুলো পরবর্তী পর্যায়ের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।
জুলাই মাসে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত কুয়ালিফায়ার ম্যাচে দলটি বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তানের ওপর জয়লাভ করে। উভয় ম্যাচেই দলটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলায় প্রবেশ করে এবং কৌশলগতভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। এই জয়গুলো দলকে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে দৃঢ় করে।
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল এখন এশিয়ান কাপের মূল পর্যায়ে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি পূর্বে অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি করে, নতুন প্রতিপক্ষের সঙ্গে মোকাবিলা করবে এবং দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করবে। এ পর্যন্ত অর্জিত র্যাঙ্কিং উন্নতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জয়লাভের ধারাবাহিকতা দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
এই সাফল্য শুধুমাত্র ক্রীড়া ক্ষেত্রেই নয়, দেশের নারী খেলোয়াড়দের জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ মাইলফলক। এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্যায়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও তরুণী খেলোয়াড়কে অনুপ্রাণিত করতে পারে।



