ফ্লোরিডার উজ্জ্বল আলোয় ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত এমএলএস ফাইনালে ইন্টার মায়ামি ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩-১ পার্থক্যে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে। এই জয়টি মেসি যুক্ত দলের জন্য দীর্ঘদিনের প্লে‑অফ ব্যর্থতার পর পুনরুদ্ধার হিসেবে ধরা পড়ে। মেসি নিজে গোল না করলেও দুইটি সহায়তা দিয়ে ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফাইনালের প্রথমার্ধে রড্রিগো ডে পল এবং তাদেও আলেন্দে দুজনই গোল করে ইন্টার মায়ামিকে সুবিধা দেয়। মেসি মাঠে উপস্থিতি, পাসের গুণমান এবং গেমের টেম্পো নিয়ন্ত্রণে তার অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ স্কোরে দলটি শিরোপা তোলার মাধ্যমে বছরের শেষ মুহূর্তে সাফল্যের চূড়া ছুঁয়ে যায়।
মেসির ২০২৫ সালের পারফরম্যান্স সংখ্যা দিয়ে কথায় প্রকাশ করা যায় না। তিনি মোট ৫৪টি ম্যাচে ৪৬ গোল এবং ২৮টি সহায়তা করে লিগের শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখে। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তিনি এমএলএস গোল্ডেন বুট এবং ধারাবাহিকভাবে এমএলএস এমভিপি পুরস্কার অর্জন করেন। শিরোপা জয় এবং ব্যক্তিগত সাফল্য একসঙ্গে মেসির ক্যারিয়ারের দীর্ঘায়ুকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে।
মেসির আগমন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়। তার উপস্থিতি যুব একাডেমিগুলোর উন্নয়নে ত্বরান্বিত করে, যেখানে এখন আরও বেশি তরুণ খেলোয়াড় পেশাদার প্রশিক্ষণ পেতে পারে। পাশাপাশি টেলিভিশন রেটিংয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে, যা এমএলএসকে পূর্বের তুলনায় বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী মিডিয়া এখন এমএলএসকে শুধু আমেরিকান লিগ নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। মেসি মাঠে খেলতে দেখা যায়, তাই এখন আমেরিকান শিশুরা সরাসরি স্টেডিয়ামে সেরা খেলোয়াড়কে দেখতে পারে, দূরের স্ক্রিনের মাধ্যমে নয়। এই পরিবর্তনটি দেশের ফুটবল সংস্কৃতিতে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে।
মারিও কেম্পেসের মন্তব্যে বলা হয়েছে, মেসির উপস্থিতি আমেরিকান তরুণদের জন্য এক ধরনের অনুপ্রেরণা, যেখানে তারা এখন বিশ্বের শীর্ষ খেলোয়াড়কে নিজের দেশের মাঠে পারফর্ম করতে দেখছে। এই দৃষ্টান্তটি ভবিষ্যতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক তারকা যুক্তরাষ্ট্রের লিগে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে পারে।
অন্যদিকে, রোনালদোও ২০২৫ সালে তার নিজস্ব লিগে সক্রিয় ছিলেন, তবে মেসির মতো কোনো শিরোপা বা ব্যক্তিগত পুরস্কার উল্লেখযোগ্যভাবে উল্লেখ করা হয়নি। উভয় খেলোয়াড়ই ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশে, ভিন্ন সংস্কৃতি ও সিস্টেমে খেললেও শীর্ষে তাদের উপস্থিতি ফুটবলের দীর্ঘায়ু ও গ্লোবাল আকর্ষণকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করেছে।
ইন্টার মায়ামির এই জয় এবং মেসির অসাধারণ মৌসুমের পর, দলটি আগামী মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু করবে, যেখানে নতুন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তবে এই মুহূর্তে, মেসি এবং তার দল যে সাফল্য অর্জন করেছে তা ২০২৫ সালের ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে।



