শাহবাগে, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ – ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বাধীন একটি সমাবেশের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা একত্রিত হয়ে হাদি হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করবে। সমাবেশের সূচনা সময় দুপুর ২ টা নির্ধারিত, এবং অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী শাহবাগের মাঠে সমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্ররা উল্লেখ করেছেন, হাদি হত্যার মামলায় এখনো কোনো দায়ী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়নি, ফলে ন্যায়বিচারের ঘাটতি নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। তারা দাবি করছেন যে, হাদির পরিবার এবং সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের জন্য আবেদন করে আসছেন, এবং ছাত্রগণ এই দাবিকে সমর্থন করে একটি বৃহৎ প্রতিবাদে অংশ নিতে চায়।
সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মতামতও প্রকাশিত হয়েছে। সরকারী পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং জনশান্তি রক্ষা করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশকে সমাবেশের সময় কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর প্রতিবাদে হাদি হত্যার মামলায় দ্রুত বিচার চাওয়ার দাবি করা হয়েছিল, যা পূর্বে লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদে উত্থাপিত হয়েছিল। সেই সময়ে শিখরাও, হাদির কবরের পাশে অশ্রুস্রোত নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে গিয়েছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশের মাধ্যমে এই দাবিগুলোকে আরও বৃহত্তর জনসমর্থন পেতে চাওয়া হচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রগণ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, এবং অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে সমাবেশের রূপরেখা তৈরি করছেন। তারা উল্লেখ করছেন, শিক্ষার্থীদের সমাবেশের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরলে সমাজে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছাবে।
সমাবেশের সময়সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২ টা থেকে শিবির গঠন করা হবে এবং পরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালু হবে। অংশগ্রহণকারীরা শিবিরে মঞ্চে বক্তৃতা, গান, এবং ন্যায়বিচার সম্পর্কিত তথ্যবহুল প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করবে। সমাবেশের শেষে, অংশগ্রহণকারীরা হাদি হত্যার মামলায় দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি চূড়ান্ত দাবি পত্র সরকারে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক এই সমাবেশকে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। ছাত্রগণ যদি বৃহৎ সংখ্যায় সমাবেশে অংশ নেয়, তবে সরকারের উপর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চাপ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য সমাবেশের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশের প্রস্তুতি চলাকালীন, কিছু রাজনৈতিক নেতারাও সমাবেশের সমর্থন জানিয়েছেন, তবে কিছু গোষ্ঠী নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সমাবেশের সময়সূচি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যে, হাদি হত্যার মামলায় দায়ী ব্যক্তির গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রগণ সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
শাহবাগে সমাবেশের ফলাফল দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ছাত্রগণ তাদের দাবি সফলভাবে উপস্থাপন করতে পারে, তবে সরকারকে মামলাটির দ্রুত সমাধানের জন্য আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাধ্য করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সমাবেশে কোনো অশান্তি বা সহিংসতা ঘটলে তা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং নিরাপত্তা সংস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে সোমবার সারাদেশের শিক্ষার্থীরা শাহবাগে সমাবেশ করবে, যেখানে হাদি হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করা হবে। সমাবেশের সময়সূচি, অংশগ্রহণকারী গোষ্ঠী, এবং সরকারী নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। এই সমাবেশের ফলাফল দেশের ন্যায়বিচার নীতি এবং ছাত্র আন্দোলনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



