কোরিয়ার উত্তর অংশে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর, কিম জং উন নেতৃত্বাধীন উত্তর কোরিয়া দীর্ঘপরিসরের কৌশলগত ক্রুজ মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়ে দেখিয়েছে। রাষ্ট্রমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA) জানায়, মিসাইলগুলো সমুদ্রের উপরে নির্ধারিত পথে উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছে এবং কিম পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
পরীক্ষাটি রবিবার অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি কিমের সাম্প্রতিক সামরিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরার এক ধারাবাহিকতা। এই ধরনের প্রদর্শনী উত্তর কোরিয়ার আসন্ন পার্টি কংগ্রেসের প্রস্তুতির অংশ, যা ২০২৬ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কংগ্রেসের মাধ্যমে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য দেশীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারিত হবে।
কিমের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক প্রতিরোধের উপাদানগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা নিয়মিত পরীক্ষা করা “দায়িত্বশীল অনুশীলন”। তিনি এও জোর দেন যে, উত্তর কোরিয়া “অসীম ও ধারাবাহিক”ভাবে পারমাণবিক যুদ্ধবাহিনীর বিকাশে সব প্রচেষ্টা নিবেদন করবে, কারণ দেশটি বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রমাধ্যম ইয়োনহ্যাপ একই দিনে জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী পিউংইয়াংয়ের কাছাকাছি সুনান এলাকা থেকে একাধিক মিসাইল উৎক্ষেপণ সনাক্ত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ভবিষ্যতে বছরের শেষের দিকে অতিরিক্ত মিসাইল পরীক্ষা হতে পারে বলে সতর্কতা জানায়।
একই সপ্তাহে KCNA জানায়, কিম একটি ৮,৭০০ টন ওজনের “পারমাণবিক চালিত কৌশলগত গাইডেড মিসাইল সাবমেরিন” নির্মাণের 현장 পরিদর্শন করেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন নির্মাণ পরিকল্পনাকে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে, তা মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এই সাবমেরিনের ছবি মার্চ মাসে প্রথমবার প্রকাশের পর থেকে প্রথমবার সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
এই পরীক্ষাগুলি পূর্ব এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক মাসে উত্তর কোরিয়া বহুবার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘপরিসরের ক্রুজ মিসাইলের উন্নয়ন অঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কে নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ করে এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার জটিলতা বাড়ায়।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “উত্তর কোরিয়ার ক্রুজ মিসাইল ক্ষমতা বৃদ্ধি তার কৌশলগত পরিসরকে বিস্তৃত করে, ফলে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা নীতিতে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন হতে পারে”। তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনার গতি ধীর করতে পারে।
কিমের এই পদক্ষেপের ফলে পার্টি কংগ্রেসের আগে দেশীয় সামরিক বাজেট ও গবেষণা পরিকল্পনা পুনরায় নির্ধারিত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পাঁচ বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পারমাণবিক ও কৌশলগত অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো, পাশাপাশি নতুন সাবমেরিন প্রকল্পের গতি ত্বরান্বিত করা হবে।
অবশেষে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, উত্তর কোরিয়ার এই ধারাবাহিক পরীক্ষা ও উচ্চ-প্রযুক্তি অস্ত্রের উন্নয়ন পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে। তাই, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া সহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক সংলাপ ও প্রতিরক্ষা নীতি পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি।



