মাইলি সাইরাস ২০২৫ সালের অস্কার গালা‑তে উপস্থিত হয়ে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জন্য নিজস্ব সঙ্গীত রচনার প্রস্তাব দেন। গ্ল্যামার পুরস্কারধারী গায়িকা ও গীতিকার জানান, তিনি যদি কোনো নির্মাতা সঙ্গীতের প্রয়োজন অনুভব করেন, তবে তিনি প্রস্তুত। এই উদ্যোগের ফলস্বরূপ তার রচিত ‘ড্রিম অ্যাজ ওয়ান’ গানের অংশটি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ ছবির ক্রেডিটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
অস্কার অনুষ্ঠানের পর মাইলি জেমস ক্যামেরনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তার সঙ্গীতের দক্ষতা তুলে ধরেন। ক্যামেরনকে তার গানের প্রস্তাব জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি কখনো আপনার কোনো ছবিতে সঙ্গীতের দরকার হয়, আমাকে জানাবেন।” ক্যামেরন এই কথাকে স্বাগত জানিয়ে মাইলি ও তার দলকে “লেজেন্ডস ইন ল’” বলে সম্বোধন করেন। এই কথোপকথনটি ‘অ্যাভাটার’ তৃতীয় অংশের উন্নয়ন পর্যায়ে ঘটেছিল, ফলে মাইলি তার গানটি ছবির থিমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন।
‘ড্রিম অ্যাজ ওয়ান’ গানের ব্যবহার ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’‑এর কাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রকাশ পায়, যা দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া জাগায়। মাইলি উল্লেখ করেন, এই গানের মাধ্যমে তিনি ছবির মূল বার্তা ও আবেগকে আরও গভীরভাবে প্রকাশ করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “গানগুলো যখন ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেগুলি ছবির স্মৃতি হয়ে যায়, যেমন ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ গানের সঙ্গে রোমান্সের দৃশ্যের সম্পর্ক।”
‘অ্যাভাটার’ ছাড়াও মাইলি পূর্বে জেমি লি কার্টিসের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি তার গাওয়া ‘বিউটিফুল দ্যাট ওয়ে’ গানের মাধ্যমে গিয়া কোপোলা পরিচালিত ‘দ্য লাস্ট শোগার্ল’ ছবিতে অংশ নেন। এই গানের জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোবের নামকরণও পেয়েছিলেন। মাইলি জানান, “আমি একই পদ্ধতি ব্যবহার করে জেমি লি কার্টিসের সঙ্গে কাজ করেছি, ফলে ‘দ্য লাস্ট শোগার্ল’ এবং এখন ‘অ্যাভাটার’‑এ অংশ নিতে পারি।”
অস্কার গালায় মাইলি সকল উপস্থিত নির্মাতাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে নেন এবং সরাসরি তাদেরকে জানিয়ে দেন, “যদি আপনার কোনো প্রকল্পে সঙ্গীতের প্রয়োজন হয়, আমি এখানে আছি।” এই সরাসরি পদ্ধতি তাকে হলিউডের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে সঙ্গীতের সুযোগ এনে দেয়। তিনি বলেন, “এই ধরনের নেটওয়ার্কিংই আমাকে নতুন প্রকল্পে যুক্ত করে।”
টেলিভিশন ক্ষেত্রেও মাইলি তার সঙ্গীতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি ‘বেবি রেইনডিয়ার’ সিরিজের স্রষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্বিতীয় সিজনের জন্য সম্ভাব্য গানের ধারণা উপস্থাপন করেন। যদিও তিনি এখনও নির্দিষ্ট কোনো গানের পরিকল্পনা করেননি, তবু তিনি এই সুযোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “যদি সিজন দুই‑এর জন্য সঙ্গীত দরকার হয়, আমি তা তৈরি করতে পারি।”
মাইলি সাইরাসের মতে, গানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের মূল থিম ও আবেগকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব। তিনি বলেন, “আমি গানের সঙ্গে নিজেকে গভীরভাবে যুক্ত অনুভব করি, এবং যখন কোনো গানের সঙ্গে ছবির দৃশ্য মিলে যায়, তখন তা দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলে।” তার এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে হলিউডের বিভিন্ন নির্মাতার সঙ্গে সহযোগিতা করার সুযোগ দেয়।
ভবিষ্যতে মাইলি আরও বেশি চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজে সঙ্গীত রচনার পরিকল্পনা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি কোনো নির্মাতা সঙ্গীতের প্রয়োজন অনুভব করেন, আমি সবসময় প্রস্তুত।” এই উন্মুক্ত মনোভাব এবং সরাসরি যোগাযোগের পদ্ধতি তাকে সঙ্গীত শিল্পে নতুন দিগন্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।



