রাষ্ট্রীয় প্রধানমন্ত্রীর দল কসোভোর জাতীয় সংসদে ১২০ আসনের মধ্যে ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে অর্ধেকের বেশি ভোট পেয়ে শাসন ক্ষমতা অর্জন করেছে। এই ফলাফল ২৮ ডিসেম্বর রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় (GMT ১৮:০০) ভোট গোনার পর ৮৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রকাশিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর দল ভেটেভেনডোজে (Vetevendosje) ৫০.২ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে উঠে, যা পূর্বে ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পরের দ্বিতীয় ভোট।
বৈধ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য দলকে ১২০ আসনের মধ্যে কমপক্ষে ৬১টি আসন দরকার, তবে বর্তমান ফলাফলে একা ৫০.২ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, কসোভো ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের ইসমেত ক্রিয়েজু মতে, বর্তমান ফলাফল চূড়ান্ত নয় এবং একা সরকার গঠন করা কঠিন, তবে ছোট একটি জোটের মাধ্যমে শাসন সহজ হতে পারে।
ক্রিয়েজু আরও বলেন, সরকার গঠনের জন্য কসোভোর সংখ্যালঘু দলগুলোর কয়েকটি আসন দরকার হবে। প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ডেমোক্রেটিক লীগ যথাক্রমে ২০.৭ শতাংশ ও ১৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা তাদের পার্লামেন্টে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
বহির্গমন জরিপের ফল প্রকাশের পর কসোভোর প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তায় তিনি ভোটের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেন। তিনি বলেন, “নাগরিকদের ইচ্ছা এখন ভোটের বাক্সে রয়েছে। এই ইচ্ছা সংরক্ষণ করা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অপরিহার্য।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
সরকার গঠন না হলে এবং সংসদ পুনরায় খোলার দেরি হলে রাজনৈতিক অশান্তি বাড়বে, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। পার্লামেন্টের সদস্যদের এপ্রিল মাসে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্বব্যাংকের এক বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার) ঋণ চুক্তি অনুমোদন করতে হবে, যা কয়েক মাসের মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে।
ব্যালকান দেশের বিরোধী দলগুলো কসোভোর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকার গঠনে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা তার পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং উত্তর কসোভোর সেরব সংখ্যালঘু অঞ্চলে নীতি নিয়ে সমালোচনা করে। এই অঞ্চলটি জাতিগতভাবে বিভক্ত এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন সত্ত্বেও, ১.৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার কসোভো দারিদ্র্য, অস্থিতিশীলতা এবং সংগঠিত অপরাধের সমস্যায় ভুগছে। ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসার পর থেকে তার শাসনকাল এই চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবেলায় নানা পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছে।
এখন পর্যন্ত গৃহীত ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, শাসক দল একা সরকার গঠন করতে পারবে না, তাই সংখ্যালঘু দলগুলোর সমর্থন নিয়ে একটি জোট গঠন করা প্রয়োজন। জোট গঠনের শর্ত এবং পার্টিগুলোর আলোচনার দিকনির্দেশনা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিরোধী দলগুলোর অবস্থান এবং তাদের শর্তাবলী সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি সংখ্যালঘু দলগুলো শর্ত পূরণে অস্বীকৃতি জানায়, তবে কসোভোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ঋণ চুক্তির অনুমোদন বিলম্বিত হতে পারে।
অবশেষে, কসোভোর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কীভাবে শাসক দল এবং বিরোধী দলগুলো পারস্পরিক সমঝোতা করে সরকার গঠন করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানে একসঙ্গে কাজ করবে তার ওপর। এই প্রক্রিয়া দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



