দিল্লি-ভিত্তিক ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধির জয়সওয়াল ২০২৪ সালের শুক্রবারে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিক হিংসা চলছে এবং তা গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন যে অস্থায়ী সরকারের শাসনকালে স্বাধীন সূত্রগুলো প্রায় ২,৯০০টি হিংসা সংক্রান্ত ঘটনা রেকর্ড করেছে, যার মধ্যে হত্যা, আগুন জ্বালানো এবং জমি জব্দের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত। জয়সওয়াল বলেন, এই ঘটনাগুলোকে কেবল মিডিয়ার অতিরঞ্জন হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক হিংসা হিসেবে উপেক্ষা করা যায় না।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস.এম. মাহবুবুল আলম জয়সওয়ালের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ কোনো ভুল, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণনা যা দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সাদৃশ্যকে বিকৃত করে, তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে। আলমের মতে, জয়সওয়ালের বক্তব্য বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা কেবল একক অপরাধমূলক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যের রূপকল্প তৈরি করার প্রচেষ্টা।
মাহবুবুল আলম আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু গোষ্ঠী একক অপরাধকে সংখ্যালঘুদের ওপর বৈষম্য হিসেবে উপস্থাপন করে, যা ভারতের বিভিন্ন অংশে বাংলাদেশ ও তার কূটনৈতিক মিশনকে লক্ষ্য করে বিরোধী মতামত গড়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, এই ধরনের প্রচারণা স্বাভাবিকভাবে সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি করে।
মন্তব্যে উল্লেখিত একটি নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে আলম স্পষ্ট করেন যে, জয়সওয়াল যে ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি পূর্বে অপরাধের তালিকায় ছিলেন এবং তার মৃত্যু হয়েছিল যখন তিনি একটি মুসলিম সঙ্গীর সঙ্গে জবরদস্তি চালাচ্ছিলেন; পরে সেই সঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়। আলমের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর বৈষম্য যুক্ত করা তথ্যগতভাবে ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।
বাংলাদেশ সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং কোনো গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হিংসা সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে, ভারতীয় মিডিয়া ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, সংখ্যালঘু বিষয়ক তথ্য প্রচারে সতর্কতা অবলম্বন করে, যাতে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা না বাড়ে।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই মতবিরোধের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলে দেখা যায়, ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা এবং ভুল ধারণা দূর করা জরুরি। বিশেষত, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে যৌথ গবেষণা ও তথ্য শেয়ারিংয়ের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, দু’দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে অতিরিক্ত আলোচনা চালু হয়েছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশ সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে, ভারতীয় পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু বিষয়ক কোনো ভুল তথ্যের পুনরাবৃত্তি না করে, বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ নীতি গঠন করা হবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান করা হয়েছে।
সংক্ষেপে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্তব্যের পর বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং উভয় দেশের মধ্যে তথ্যের সঠিকতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রাখতে আরও সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে জোর দিয়েছে।



